ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

সৈকতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কিছু ছিল না, এরা মিথ্যাবাদী 

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৩৭, ১ জানুয়ারি ২০২৫
সৈকতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কিছু ছিল না, এরা মিথ্যাবাদী 
ফটো- সংগৃহীত

বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা এখনো হয়নি শেষ। যশস্বী জয়সওয়ালকে তার আউট দেওয়া নিয়ে  দুই ভাগে বিভক্ত ক্রিকেট বিশ্ব। রিকি পন্টিং, রবি শাস্ত্রী, সাইমন টফেল সৈকতের পক্ষ নিয়েছেন। তবে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা সরাসরি বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।

তবে ভারতের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার সুরিন্দর খান্না শক্তভাবেই সৈকতের পক্ষ নিয়েছেন। জয়সওয়ালকে আউট দেওয়া নিয়ে সমালোচনাকারীদের সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন ১০টি ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটার।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে খান্না বলেছেন,  ‘বিতর্ক তৈরির মতো কিছু তো ছিল না সেখানে। চারটা অ্যাঙ্গেল থেকে দেখানো হয়েছে। বলটা গ্লাভসে লেগেছে, তাতে কিছুটা গতি কমে বলটা উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে জমা পড়ে। আকাশ দীপও আউট হওয়ার পর একই কথা বলেছিল।’ 

Advertisement

সমালোচনাকারীদের এক হাত দেখে নিয়ে তার ভাষ্য, ‘এরা তো মিথ্যাবাদী। আপনাকে আগে সৎ হতে হবে, এরপরই কেবল আপনি জিততে শুরু করবেন। হাতে ব্যাট থাকলে বলা কানায় লেগেছে কিনা, সেটি আপনি না বুঝে পারেন কীভাবে? ঘটনা হলো আমরা বাজে খেলেছি ও হেরেছি।’

মেলবোর্ন টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়ার তখনো দরকার ৪ উইকেট। অজি পেসার প্যাট কামিন্সের একটি বাউন্সারে ফাইন লেগে মারতে চেয়েছিলেন জয়সওয়াল। বল অবশ্য উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে জমা পড়ে। ফিল্ড আম্পায়ার আউট বনা দেওয়ায় কামিন্স রিভিউ নিলে তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার ইবনে সৈকত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন ২০৮ বলে ৮ চারে ৮৪ রানের ইনিংস খেলা জয়সওয়াল।   

রিভিউ নেয়ার রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট ও গ্লাভস ছুঁয়েছে। শরফুদ্দৌলাও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জানান, তিনি স্পষ্ট করেই দেখতে পেয়েছেন বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তবে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি স্নিকোর সাহায্য চান। কিন্তু স্নিকোগ্রাফে পরিবর্তন আসেনি। তবুও বাংলাদেশি আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানান।

সৈকতের বিরোধীতায় সুনীল গাভাস্কার বলেছিলেন, ‘আমরা অনেকবার দেখেছি, বল সিমে পড়ে ব্যাটে না লেগে খুব কাছ দিয়ে গিয়ে দেরিতে সুইং করে। দূর থেকে মনে হয়, বল ব্যাটের কানায় লেগেছে...দেখার ভুলের কারণে মনে হয়, বল ব্যাটে লেগেছে। এখানেও দেখার ভুলই হয়েছে। প্রযুক্তি যদি বলে এটা আউট নয়, তাহলে আউট দেওয়ার সুযোগ নেই।’

রাজীব শুক্লার মন্তব্য ছিল, ‘যশস্বী জয়সোয়াল পরিষ্কার নট আউট। প্রযুক্তির পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল তৃতীয় আম্পায়ারের। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে অকাট্য প্রমাণ থাকা উচিৎ।’

এর আগেও বিভিন্ন সময় স্নিকো নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কখনো বল না লাগলেও স্নিকোতে আওয়াজ ধরা পড়েছে, আবার কখনও ব্যাটে বল লাগলেও তা ধরা পড়েনি। এই প্রযুক্তি কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। 

তবে জয়সওয়ালের ক্ষেত্রে আরেকটি যুক্তি প্রযোজ্য। স্নিকোর মাইক থাকে স্টাম্পের পিছনে মাটির নিচে। উইকেটের উচ্চতায় বল থাকলে সেই আওয়াজ যতটা সহজে ধরা পড়ে, সেটা বেশি উচ্চতা থাকলে সম্ভব নয়। 

জয়সওয়ালের উচ্চতা ৬ ফুট। বল তার মাথার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। অর্থাৎ স্টাম্প মাইক ছিল অন্তত ৬ ফুট নিচে ছিল। সেই কারণে গ্লাভসের মতো নরম জিনিসে বলের স্পর্শ ধরা নাও পড়তে পারে স্নিকোতে। তাই তৃতীয় আম্পায়ার তাঁর পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে তাই অনেকেই সাহসী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/শুভ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!