ভিন্ন ভিন্ন নামে বিপিএলে অংশগ্রহণ
২০১২ সালে বিপিএলের শুরুর দলগুলোর মধ্যে একটি ছিল রাজশাহী। প্রথম মৌসুমে দুরন্ত রাজশাহী নামে তাদের অর্বিভাব। ২০১৩ মৌসুমে একই নামে বিপিএল খেলে তারা। মাঝে ২০১৫ সালের আসর খেলেনি রাজশাহী। চতুর্থ আসরে দলটির মালিকানা কিনে নেয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস)। ২০১৬ সালে দুরন্ত রাজশাহী নাম বদলে রাখা হয় রাজশাহী কিংস। ওই আসরে দলটি ভালো পারফরমেন্স করে। প্রথমবারের মতো রার্নাস-আপের তকমা পায় তারা। ওই আসরের পর একই নামে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে পর্যন্ত খেলে দলটি। ২০১৯-২০ সালের মৌসুমে আবারো পরিবর্তন হয় রাজশাহীর মালিকানা। তখন দলটির নাম রাখা হয় রাজশাহী র্যায়েলস। এই মৌসুমে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর টানা তিন মৌসুম বিপিএলে খেলেনি রাজশাহী। আগামী মৌসুমে অর্থাৎ ২০২৫ সালে ফের মালিকানা পরিবর্তনে দুর্বার রাজশাহী নামে বিপিএলে দেখা যাবে।
রাজশাহীর অর্জন
২০১২ সাল থেকে ২০১৯-২০ সাল পর্যন্ত মোট ছয়টি মৌসুমে বিপিএলে অংশগ্রহণ করে রাজশাহী। ২০১২ সালে চমক দিয়েছিল তারা। ওই আসরে শুরুর কয়েকটি ম্যাচে ভালো করতে পারেনি দলটি। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে রাউন্ড অব লিগের কয়েকটি ম্যাচ জেতে তারা। ইতিবাচক পারফরমেন্স করে সেমির দৌড়ে টিকে থাকা। শেষ দিকে ভালো না করায় ৭ দলের মধ্যে ষষ্ঠ হয়ে আসর থেকে বিদায় নেয়। ২০১৩ মৌসুমে নিজেদের দ্বিতীয় আসরে ভালো করে রাজশাহী। চারে থেকে প্লেফ-অফ নিশ্চিত করেই বিদায় নেয়। ২০১৫ নানা কারণে বিপিএলে খেলা হয় না তাদের। ২০১৬ সালের মৌসুমে আবারো বিপিএলে ফিরে রাজশাহী। ওই মৌসুমে শুরু থেকে দারুণ ভাবে খেলতে থাকে তারা। পুরো আসরে দারুণ পারফরমেন্সের কারণে ২০১৬ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে দলটি। ফাইনালে কুমিল্লার কাছে হেরে রানার্স-আপের তকমা নিয়ে শেষ করে। ২০১৭ ও ২০১৯ মৌসুম ছিল দলটির জন্য একেই বারে ম্যাড়মেড়ে। লিগ পর্ব পর্যন্ত খেলে তারা। ২০১৯-২০ মৌসুম আবারো ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। দারুণ খেলে ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুকুটপরে উত্তরবঙ্গের দলটি।
.png)
রাজশাহীর জার্সিতে যারা খেলেছেন
রাজশাহীর জার্সি অনেক তারকা খেলোয়াড় খেলেছেন। প্রথম মৌসুমে মুশফিকুর রহিম, ওয়েস্ট উইন্ডিজের মারলন সামুয়েলস, পাকিস্তানের মোহাম্মদ সামি এবং দেশিদের মধ্যে সাব্বির রহমানের মতো তারকাদের দেখা গেছে। দ্বিতীয় মৌসুমে তামিম ইকবাল, মুইন আলী, তৃতীয় মৌসুমে ড্যারেন সামি, উপুল থারাঙ্গা, জেমস সাকলিঙ্ক,এবং পরের কয়েক মৌসুমে লুক রাইট, উসমান মির, শোয়েব মালিক ও আন্দ্রে রাসেলের মতো তারকারা রাজশাহীর জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠ মাতিয়েছেন।
খেলোয়াড় পরিচিত
দেশি: ইয়াসির আলী, মিজানুর রহমান, এনামুল হক বিজয়, আকবল আলী, জাহিদুজ্জমান, এসএম মেহেরাব, সাব্বির হোসেন, জিশান আলম, সানজামুল ইসলাম, হাসান মুরাদ, তাসকিন আহমেদ (অধিনায়ক), মুয়র শেখ, শরিফুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান পিয়াল।
বিদেশী: মোহাম্মদ হারিস (পাকিস্তান), সাদ নাসিম (পাকিস্তান), লেহেরু সারাঙ্কা (শ্রীলংকা), নাথান এডোয়াড (ওয়েস্ট উইন্ডিজ), রায়হান বুলারি (জিম্বাবুয়ে), আরাফাত মানাজ (পাকিস্তান), বেলাল খান (ওমান)।
রাজশাহীর খেলোয়াড়দের পজিশন
ব্যাটার: ইয়াসির আলী, মিজানুর রহমান।
উইকেট-কিপার: এনামুল হক বিজয়, আকবল আলী, জাহিদুজ্জমান, মোহাম্মদ হারিস।
অলরাউন্ডার: এসএম মেহেরাব, সাব্বির হোসেন, জিশান আলম, সাদ নাসিম, লেহেরু সারাঙ্কা , নাথান এডোয়াড , রায়হান বুলারি।
স্পিন-বোলার: সানজামুল ইসলাম, হাসান মুরাদ।
পেস-বোলার: তাসকিন আহমেদ, মুয়র শেখ, শরিফুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান পিয়াল, আরাফাত মানাজ, বেলাল খান।
টিম অফিশিয়াল
টিম ম্যানেজার: মেহেরাব হোসেন অপি
অপারেশন ইনচার্জ: জায়েদ আহমেদ
প্রধান কোচ: ইজাজ আহমেদ
সহকারী কোচ: রায়ো ইফতেখার
ফিজিও: শরিফুল হাসান
ট্রেনার:সজীব সুত্রাধর
সম্ভবনা ও শক্তি
দেশি-বিদেশিদের মিশেলে মোটামুটি শক্তিশালী দল গঠন করেছে রাজশাহী। ঘরোয়া লিগে সব সময় ব্যাট হাতে রান করে থাকে এনামুল হক বিজয়। লিগে তার রয়েছে জ্বলে উঠার সুযোগ। এছাড়াও বিপিএল দিয়ে নজর কাড়তে চাইবেন তিনি। ওপেনিং পজিশনে রাজশাহীতে নেই বিদেশী কোনো মুখ। দেশিদের উপর ভরসা রেখেছে তারা। টি-টোয়েন্টি মানেই চার-ছক্কার ছাড়াছড়ি। ওপেনার হিসেবে দেখা যাবে ইয়াসির আলীকে।তার টি-২০ স্ট্রাইকরেট ইতিবাচক। ঘরোয়া লিগে তার ব্যাটে কার্যকারী ভূমিকা রাখে। জাতীয় দলের জার্সিতে রান না পেলেও বিপিএলে তার রয়েছে চমক দেয়ার সুযোগ। এছাড়াও মিডেল অর্ডারে হারিস রউফ ভালো করতে পারেন। এছাড়াও, সাদ নাসিম, লেহেরু সারাঙ্কা, নাথান এডোয়াড, রায়হান বুলারি মতো বিদেশী খেলোয়াড় রয়েছেন। যারা সুযোগ পেলে ব্যাট ও বোলিং সমানভাবে অবদান রাখতে পারেন। বোলিং ইউনিটে নেতৃত্বে দিবেন অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ। জাতীয় দলের জার্সি উজ্বল পারফরমার তিনি। বিপিএলে তার বোলিং ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখতে পারে রাজশাহী। ক্রিকেটাররা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে কোয়ালিফাই খেলবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
রোল অফ অনার
বছর দল অর্জন
২০১২ ৬ সেমিফাইনাল
২০১৩ ৭ প্লেল-অফ
২০১৫ ৬ অংশগ্রহণ করেনি
২০১৬ ৭ রানার্স-আপ
২০১৭ ৭ লিগ পর্ব
২০১৯ ৭ লিগ পর্ব
২০২৯-২গ ৭ চ্যাম্পিয়ন
২০২২ ৬ অংশগ্রহণ করেনি
২০২৩ ৬ অংশগ্রহণ করেনি
২০২৪ ৭ অংশগ্রহণ করেনি