ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

প্রথম শিরোপা উঁচিয়ে ধরার অপেক্ষায় সিলেট

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ১৬:১৫, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
প্রথম শিরোপা উঁচিয়ে ধরার অপেক্ষায় সিলেট
ছবি: সিলেট স্ট্রাইকার্স

বিপিএল শুরু হতে বাকি নেই একদিনও। এরই মাঝে উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে। একটি ট্রফি, ৭টি দলের লড়াই, একটাই লক্ষ্য, শিরোপা। কার হতে উঠবে ট্রফি? কে হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন? কোন খেলোয়াড় হবে এবারের সেরা? এগুলোর উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এক মাসব্যাপী চলা এই আসরের প্রত্যেকটি দলের রয়েছে নিজস্বতা, শক্তি এবং লড়াই করার মানসিকতা। আজ জানবো বিপিএলের দল সিলেট স্ট্রাইকার্স সম্পর্কে। 

ভিন্ন ভিন্ন নামে বিপিএলে সিলেট
চায়ের শহর সিলেট। পর্যটন নগরী খ্যাত এই শহরটি নানা কারণে বিখ্যাত। ২০১২ সালে বিপিএলের শুরুর দিকে যে কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করেছিল তার মধ্যে সিলেট ছিল অন্যতম। ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম মৌসুমে দলটির নাম ছিল সিলেট রয়্যালস। এ নামে প্রথম ও দ্বিতীয় মৌসুম শেষ করে তারা। ২০১৫ সালে দলটির নতুন করে  মালিকায় পরির্বতন হয়। দলটিকে কিনে নেন আলিফ গ্রুপ। সিলেটের নাম পরির্বতন করে রাখা হয় সিলেট সুপার স্টার। বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় বিসিবি চতুর্থ বিপিএলে দলটিকে বাদ দেয়। ২০১৭ সালে আবারো সিলেটের মালিকানা পরির্বতন হয়ে নাম রাখা হয় সিলেট সিক্সার্স। ২০১৯ মৌসুমে ফের নাম পরির্বতন হয় বিপিএলে। সিলেট থান্ডার হিসাবে খেলে তারা। ২০২১ সালে নাম রাখা হয় সিলেট সানরাইজার্স। ফের নাম পরির্বতন হয়ে দলটির নাম রাখা হয় সিলেট স্ট্রাইকার্স। নামে বর্তমান মৌসুমেও খেলছে তারা।

সিলেটের অর্জন
২০১২ সাল থেকে অংশ নেয়া সিলেট, প্রত্যেক মৌসুমে সাদা-মাটা দল গঠন করে। প্রথম মৌসুমে দলটি ভালো করতে পারেনি। প্রথম মৌসুমে ছয় দলের মধ্যে তলানি থেকে মৌসুম শেষ করে তারা। প্রথম মৌসুমের ব্যর্থতার পরে দ্বিতীয় মৌসুমে তারা ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সেখানে গ্রুপ পর্বে ইতিবাচক পারফরমেন্সে করে প্লে-অফে জায়গা করে নেয়। ওই মৌসুমে সেখানেই তারা বিদায় নিয়ে নেয়। ২০১৫ মৌসুমে গ্রুপ পর্বে থেকে পাঁচে থেকে বিদায় নেয় তারা। ২০১৬ সালে বিপিএলে অংশ নেয়নি।  এরপর ২০১৭ মৌসুমে সাত  দলের মধ্যে পাঁচ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে সাত দলের মধ্যে ছয়, ২০১৯-২০ মৌসুমে সাত দলের মধ্যে তলানি ও ২০২২ মৌসুমে সাত দলের মধ্যে তলানি থেকে আসর শেষ করে সিলেট। তবে ২০২৩ সালে এসে চমক দেখায় দলটি। প্রথমবারের মতো বিপিএলের ফাইনালে ওঠে তারা। তবে শিরোপার স্বাদ পায়নি তারা। রানার্স-আপের তকমা নিয়ে বিপিএল শেষ করে। ২০২৪ সালেও তলানি থেকে বিপিএলে শেষ করে তারা।

Advertisement

ছবি: ২০২৪-২৫ আসরের সম্ভাবনাময় দল স্ট্রাইকার্স২০২৪ সালে বিপিএলে দল গঠন করতে যত খরচ সিলেটের
বিপিএলে এখন পর্যন্ত বড় কোন অর্জন নেই সিলেটের। এবারের নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা খরচ করে দল গুছিয়েছে ফিউচার স্পোর্টসের অধীনে খেলা এই সিলেট। ড্রাফট থেকে সিলেটের সিলেকশন মন্দ হয়নি খুব একটা। বিপিএলে মাশরাফি বিন মর্তুজা অনিশ্চিত জেনেও তাকে দলে নিয়েছে সিলেট। সরাসরি চুক্তিতে তারা দলে টেনেছে সর্বশেষ উইন্ডিজ সফরে চমক দেখানো জাকের আলীকে। দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সিলেট ধরে রেখেছে তানজিম হাসান সাকিব ও জাকির হাসানকে। বিদেশীদের মধ্যে খুব একটা বড় নামকে দলে ভেড়াতে পারেনি সিলেট স্ট্রাইকার্স। ডিরেক্ট সাইনিংয়ে সিলেটের ঢেরায় পা রাখতে যাচ্ছে আইরিশ ওপেনার পল স্টারলিং ও স্কটিশ ব্যাটার জর্জ মুনসি। ড্রাফট থেকে সিলেটের বড় অর্জন ইংলিশ পেসার রিচ টপলি। 

শক্তি, দুর্বলতা ও সম্ভাবনা
তরুণ ও অভিজ্ঞ প্লেয়ারদের মিশেলে সিলেটের দলটি এবার তুলনামূলক শক্তিশালী। তানজিম সাকিব-জাকের আলীরা তো আছেনই, সঙ্গে মাশরাফী, নাহিদুল ইসলাম, আরাফাত সানি ও আল-আমিনের মতো ক্রিকেটারও আছেন। যারা নিজেদের দিনে দলকে ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য রাখেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারন জোনসও সাম্প্রতিক সময়ে রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাশরাফী এবারের বিপিএলে খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট শঙ্কা। টুর্নামেন্টে ম্যাশ যদি না খেলতে পারেন তাহলে সিলেটের অধিনায়কত্ব কে করবে তা নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে দলটি। এছাড়া পর্ল স্টার্লিং, জর্জ মানসি ও রাহকিম কর্নওয়ালকে পুরো সিজনের জন্য পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। তানজিম সাকিব-জাকের আলীরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে এবং ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকের সামনে খেলার সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে সিলেটের কোয়ালিফায়ারে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবি: ২০২৩ আসরে সিলেটের হয়ে খেলা দেশী ক্রিকেটারখেলোয়াড় পরিচিতি
দেশি: যাওয়াত আবরার, রনি তালুকতদার, জাকির হোসেন, জাকের আলী, নাহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক, তানজিম হাসান সাকিব,আল-আমিন হোসেন, রয়েল মিয়া, আরফাত সানি, নাহিদুউজ্জামান, মেহেদী হাসান সোহাগ।

বিদেশি: জর্জ মানসে (স্কাটল্যান্ড), অ্যারোঞ্জ জোনেস (যুক্তরাষ্ট্র),  রহকিম রশন শেন কর্নওয়াল (ওয়েন্ট উইন্ডিজ), পল স্টার্লি (আয়ারল্যান্ড), সামিউল্লাহ শেনওয়ারি (আফগানিস্তান), রিচ টপলি (ইংল্যান্ড), জজ রোস (ওয়েস্ট উইন্ডিজ)

সিলেট খেলোয়াড়দের পজিশন
ব্যাটার: যাওয়াত আবরার, জর্জ মানসে, অ্যারোঞ্জ জোনেস।
উইকেট: কিপার: রনি তালুকতদার, জাকির হোসেন, জাকের আলী।
অলরাউন্ডার: রহকিম রশন শেন কর্নওয়াল, পল স্টার্লি, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, নাহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক।
পেস-বোলার: তানজিম হাসান সাকিব,আল-আমিন হোসেন, রয়েল মিয়া,রিচ টপলি।
স্পিন-বোলার: আরফাত সানি, নাহিদুউজ্জামান, মেহেদী হাসান সোহাগ, জজ রোস।

ছবি: সিলেট স্ট্রাইকার্সের লোগোকোচিংস্টাফ
প্রধান কোচ: একেএম মাহামুদ হাসান
টিম ম্যানেজার: টিপু সুলতান
সহকারী কোচ: সাইদ রাসেল
ব্যাটিং কোচ : তুষার ইমরান
বোলিং কোচ: ডলার মহামুদ
ফিল্ডিং কোচ: মুরাদ খান 

রোল অফ অনার
বছর     দল    অর্জন
২০১২   ৬    লিগ পর্ব
২০১৩    ৭    প্লে-অফ
২০১৫    ৬    গ্রপ পর্ব
২০১৬    ৭  অংশগ্রগণ করেনি
২০১৭    ৭  লিগ পর্ব
২০১৯    ৭  লিগ পর্ব
২০১৯-২০     ৭  লিগ পর্ব
২০২২    ৬   লিগ পর্ব
২০২৩    ৬   রার্নাস-আপ
২০২৪   ৭  লিগ পর্ব

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!