স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে মরক্কোর যৌথ বিড এখন ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার পক্ষ থেকে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) আসছে সেই ঘোষণা। দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বকাপের প্রথম আয়োজনের থেকে এক শতক পেরিয়ে শতবর্ষী আয়োজনে তাই স্পেন-পর্তুগাল-মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের নাম।
বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ১৯৮৭ সালে অংশ নিয়েছিল মরক্কো। ৪০ বছর আগের ঐ বিডের লক্ষ্য ছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের। সব মিলিয়ে দেশটির রাজধানী রাবাত পাঁচবার বিডে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপও রয়েছে। আফ্রিকান দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবারের মতো ২০১০ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছিল। সেবারও বিডে অল্পের জন্য মরক্কোর সুযোগ পায়নি।
.png)
২০৩০ বিশ্বকাপ কমিটির মরক্কোর প্রধান ফৌজি লেজা বলেছেন, ‘এটি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের পর্যটনকে চাঙ্গা করার একটি অনন্য সুযোগ।’
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বক্তৃতায় লেজা বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের রূপান্তরমূলক সম্ভাবনার উপর জোর দেন।
মরক্কোর সরকার ছয়টি স্বাগতিক শহরে রাবাত, ক্যাসাব্লাঙ্কা, ফেস, টাঙ্গিয়ার, মারাকেশ এবং আগদির অবকাঠামো আধুনিকীকরণের জন্য উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর, সড়ক ও পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি হোটেল ও বাণিজ্যিক পরিষেবা বৃদ্ধি করা।
ছয়টি শহরের ছয়টি স্টেডিয়ামের সংষ্কার কাজ এরই মধ্যে চলমান রয়েছে। ক্যাসাব্লাঙ্কার নিকটবর্তী এক লাখ ১৫ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নতুন একটি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৪৮০ মিলিয়ণ ইউরো। এই প্রকল্পগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন একজন ক্রীড়া প্রকল্প বিশেষজ্ঞ।
মেক্সিকোতে ১৯৮৬ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেই মরক্কো বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করে। এই আসরে প্রথম কোনো আফ্রিকান ও আরব জাতি হিসেবে নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল দেশটি। নিজেদের ভাবমূর্তি বিশ্বের দরবারে সমুন্নত করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফুটবলকে ব্যবহারের পরিকল্পনা তখন থেকেই তাদের মাথায় আসে।
২০১৫ সালে আফ্রিকান নেশন্স কাপ মরক্কোতে আয়োজনের কথা থাকলেও পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা মহামারির কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তবে আগামী বছর ডিসেম্বরের শুরুতে পরবর্তী নেশন্স কাপ মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২২ সালে নারী আফ্রিকান নেশন্স কাপের স্বাগতিক ছিল মরক্কো। ক্লাব বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি আসরের আয়োজনের অভিজ্ঞতাো রাষ্ট্রটির রয়েছে।