গত কয়েক মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের অন্যতম সেরা পারফরমার এই উইকেটকিপার। যে কারণে অনেকদিন থেকেই টেস্ট দলের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, কিন্তু সুযোগটা মিলছিল না। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে মিলেছে সেই সুযোগ।
স্কোয়াডে পর্যাপ্ত ব্যাটার থাকা সত্ত্বেও কেন নির্বাচকরা জাকেরকে অন্তর্ভুক্ত করলেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবির নির্বাচক হান্নান সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে নেয়ার দুটি কারণ উল্লেখ করেন।
.png)
‘আমরা একটা বিষয় মাথায় রেখেছিলাম কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষ। সেই জায়গা থেকে পাকিস্তানে আমরা ৫ জন সিমার নিয়ে গিয়েছিলাম। এখানে আমরা সিমারের সংখ্যাটা কমিয়ে চারজনে এনেছি। একজন ব্যাটসম্যানের সংখ্যা বাড়িয়েছি মিডল অর্ডার স্পেশালিস্ট। টিম কম্বিনেশনে আমাদের মনে হয়েছে যে মিডল অর্ডারে একজন বাড়ানো দরকার। সেই জায়গা থেকে মিডল অর্ডারে অপশন বাড়িয়েছি।’
গত বছরের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন শাহাদাৎ হোসেন দীপু। তাকে দলে না ফিরিয়ে জাকেরকে নেয়ার পক্ষেও হান্নান যুক্তি তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ‘আপনারা জানেন দীপু (বিবেচনায়) ছিল। যখন সে ম্যাচ খেলেছে, তখন সবসময় সাকিব ও মুশফিক ছিল না। কেউ একজন অনুপস্থিত ছিল। তখন দীপু ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। খারাপ-ভালো মিলিয়েই খেলেছে।’
‘আমি বলবো না খুব খারাপ খেলেছে বা খুব ভালো খেলেছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সটা আমরা মূল্যায়ন করেছি। দীপু অস্ট্রেলিয়ায় (এইচপি দলের হয়ে খেলতে) গিয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ দলের হয়ে ম্যাচ খেলেছে। খুব ছন্দে নেই। আন্তর্জাতিক ম্যাচ কেউ খেলতে গেলে তার ফর্মটা গুরুত্বপূর্ণ।’
চার টেস্ট খেলা দীপু ১৪.৭৫ গড়ে করেছেন মাত্র ১১৮ রান। সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম তার পক্ষে কথা বলছে না। অপরদিকে, গত কয়েক মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের অন্যতম সেরা পারফরমার জাকের। যে কারণে অনেকদিন থেকেই টেস্ট দলের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, কিন্তু সুযোগটা মিলছিল না।
গত মাসে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে পাকিস্তান সফরে গিয়ে শাহিনসের বিপক্ষে ২৮৬ বলে ১৭২ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন জাকের। ১৭টি চার এবং ৫টি ছক্কায় খেলা সেই ইনিংসের পর তাকে আর উপেক্ষা করতে পারেননি নির্বাচকরা।
২০২০ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ ইনিংসে ব্যাট করেছেন জাকের। যেখানে ৪০.১২ গড়ে তার রান ২০০৬। ক্যারিয়ার গড়ও বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিবেচনায় বেশ ভালো- ৪৯ ম্যাচে ৮১ ইনিংসে ৪ সেঞ্চুরিতে ২৮৬২ রান। গড় ৪১.৪৭।