ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ-২০২৩

এই আফগানিস্তানকে মনে রাখতেই হবে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৩, ১১ নভেম্বর ২০২৩
এই আফগানিস্তানকে মনে রাখতেই হবে
ছবি- সংগৃহীত

আফগানিস্তানের কেউ কি ভেবেছিল এতটা ঝলমলে বিশ্বকাপ হবে তাদের। মনে হয় না! তবে যখন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখায় দলটি তখন হয়তো আশাটা বেড়ে যায়। সেই আশার সঙ্গে তাদের দারুণ চেষ্টা আর ইচ্ছে শক্তি একের পর এক রুপকথার গল্প লিখে দেয়। প্রতিটা ম্যাচে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে। জয়ের পর একসাথে উদযাপনে মেতেছে, হারলেও সহজে হার মানেনি। এমন লড়াকু আফগানিস্তান জিতে নিলো ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ও। তাই চাইলেও এই কদিনের সুখস্মৃতি ভুলতে পারবেন না অনেকে। 

এবারের বিশ্বকাপে আফগানদের পারফরম্যান্সটা দর্শক মনে অনেকটা জায়গাজুড়ে থাকবে। যে আফগানিস্তান বড় মঞ্চে জয়ই পেতো না। সেই কবে স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছিল। এবার তারা কিনা সেমির জন্যও লড়াই করে। সেই সাথে ফেভারিটদের জানিয়ে দেয় তারাও ডার্ক হর্স নয়৷ 

আফগানিস্তানের টপ অর্ডার সত্যি সবাইকে অবাক করেছে। এই বিশ্বকাপে তাদের ব্যাটাররা সেঞ্চুরিও পেয়েছেন। রহমত শাহ, শাহিদি, ইব্রাহিম, নাজিবুল্লাহ, ওমরজাই, সামিউল্লাহরা ছিলেন তাদের ব্যাটিংয়ের মূল চালিকাশক্তি। এতটা পরিণত ব্যাটিং করতে আগে কখনো দেখা যায়নি। এবার আগে ব্যাটিং করতে নেমে কিংবা রান চেজেও দারুণ সক্ষমতা দেখিয়েছেন তাদের ব্যাটিং বিভাগ। 

Advertisement

এমনকি লোয়ার অর্ডারেও রান পেয়েছে দলটি। কেউ না কেউ হাল ধরে সংগ্রহটা এগিয়ে নিয়ে যান। আফগানিস্তানের এমন চমৎকার ব্যাটিংই তাদের বিশ্বকাপে সাফল্যের বড় কারণ। না হলে যে দল একটা ম্যাচ জিততে বুক মাটিতে লাগাতে হতো৷ এবার তারা এক এক করে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে যেভাবে হারালো, সেমিফাইনালে না উঠলেও তাদের দুঃখ থাকার কথা না।

যে আফগানিস্তানকে সবাই স্পিন শক্তির দল হিসেবে চিনতো, তারা এখন পেসেও সমীহ জাগানিয়া। নবীন, ফারুকি, ওমরজাইরা গতি আর সুইংয়ে ছড়ান সৌরভ। তাই বিশ্বকাপের পর আর আফগানদের স্পিন নির্ভর দল বলারও সুযোগ নেই। অবশ্য তাদের ভালো করার পেছনে আরেকটা কারণও আছে। সেটা হলো ভারতের কন্ডিশন তাদের বড্ড পরিচিত। দলটির অনেকেই আইপিএলে নিয়মিত। সেই সুবাদে উইকেটের সুবিধাটাও পেয়ে যান তারা।

তবে স্পিনটা আগের চেয়ে আরেকটু ধারালো হয়েছে তাদের। আগামীর তারকা নূরের আলোও ছড়িয়েছে চারদিকে। তার সঙ্গে পরীক্ষীত রশিদ খান ও মুজিব উর রহমানও সফলতা পেয়েছেন। প্রতিপক্ষের দূর্বলতা খুঁজে বোলিং আক্রমণ সাজিয়ে ঝলক দেখান তারা। কোনো কোনোদিন উইকেট না পেলেও রানের স্রোতে ঠিকই বাঁধ দিয়েছেন তারা। বরাবরের মতো এবারো তাদের স্পিন আক্রমণের মূল দায়িত্ব ছিল রশিদ-মুজিবদের কাঁধে। দলের প্রয়োজন হলেই তাদের একজন ম্যাজিকের মতো সব বদলে দিতেন। এমনকি সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ঝলক দেখিয়েছেন তাদের স্পিন বিভাগ। লিডারশীপে ছিলেন রশিদ খান। ভয়ংকর ক্লাসেনকে ভয়ানক হওয়ার আগেই ফিরিয়ে দেন তিনি। সুবিধা করতে পারেননি আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান মার্করামও। সবে উইকেটে সেট হচ্ছিলেন তার আগেই রশিদের গুড ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে যান। সবমিলিয়ে চলমান বিশ্বকাপে রশিদের ঝুলিতেই জমা পড়েছে ১১ উইকেট।

সেমিতে যেতে পারেনি আফগানিস্তান, এরা ভেবে এখন মোটেও আক্ষেপ করবে না দেশটির কেউ। অন্তত নিজেদের ইতিহাসের সেরা একটি আসর পার করতে পেরেছে বলে গর্ব করবে সবাই। যারা সাক্ষী হয়েছে এবারের আসরের তারাও বলবে রশিদ-নবিদের ধন্যবাদ। চার চারটি জয়, স্বপ্নেও ভাবেনি আফগানিস্তান। কিন্তু এবার সেটা বাস্তবে ধরা দিলো। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও খেলবে আফগানিস্তান। না জানি সেই আসরেও বাঘা বাঘা প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম করে কিনা। বিশেষ করে টপ ক্লাস স্পিনারদের নিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেরা দলগুলোর সঙ্গেও টক্কর দেবে। রশিদের ক্যারিয়ার শেষ না হতে নূর হাজির। কী এক রহস্যময় লেগ স্পিনার। ক্যারম বল, গুগলি, অফ ব্রেক-এমন অনেক অস্ত্রই রয়েছে তার ভান্ডারে। যখন যেটা দরকার নিজের ঝুলি থেকে বের করেন আর টপাটপ উইকেট তোলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!