জাতীয় দলের জার্সিতে আকরাম অধ্যায়ের সমাপ্তি হতেই তার ভাতিজা তামিম ইকবাল অধ্যায়ের সূচনা। তার আগে আরেক ভাতিজা নাফিস ইকবাল বাইশ গজে পা রাখলেও বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেননি। ভাই আর চাচার অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দেওয়ার দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নেন তামিমই।
২০০৭ থেকে ২০১৯ টানা চার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তামিম ইকবাল খান। সেই হিসেবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সঙ্গে খান পরিবারের একটা দারুণ সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এবারই প্রথম সেই বন্ধনের বিচ্ছেদ হলো। হয়তো তামিম না থাকলেও তার ভাই নাফিস ইকবাল অন্য কোটায় খানদের আসনটা অলংকৃত করতে পারতেন।
.png)
শেষ পর্যন্ত সেটিও সম্ভব হলো না। নাফিসকেও ছাড়তে হলো ম্যানেজারের পদ। সবমিলিয়ে এই প্রথম বিশ্বকাপে দেখা যাবে কোনো ‘বাংলার খান’!
আসলে দেশের ক্রিকেটে খান পরিবারের প্রভাব অনেক আগে থেকেই। শুরুর দিকে আকরাম খান, এরপর নাফিস ইকবাল খান। সবশেষ তামিম ইকবাল খান। তিন খানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ছিল তামিমের শাসন।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন আকরাম খান। পরের বিশ্বকাপ অর্থাৎ ২০০৩ সালে এই ব্যাটার শুরুতে বিবেচনায় না থাকলেও পরে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার চোটের কারণে সুযোগ পেয়ে যান। এরপর তো বাংলার ক্রিকেটে ধুমকেতুর মতো আগমন ঘটে তামিমের।
২০০৭ আসরে ভারতের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি দিয়ে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন তামিম। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঘরের মাঠে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টেও ছিল এই নামটা। আগের দুই আসরে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও ২০১৫ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে তামিম ইকবাল বাংলাদেশ দলের অটো চয়েস হয়ে যান। তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দর্শকদের মনঃক্ষুণ্ন হয়। তবুও তাকে নিয়ে অনেকে নতুন স্বপ্ন বুনেছিলেন। তিনিও খুব করে চেয়েছিলেন ভারত বিশ্বকাপ দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানতে। কিন্তু চোট আর ফিটনেস সমস্যার কঠিন সাগরে পড়ে আর তীরের দেখা পাননি খান পরিবারের সবশেষ এ নবাব!