হারকিউলিস একটি বৈপরীত্যময় বহুরৈখিক চরিত্র, যার ফলে কবি সাহিত্যিকরা তাকে ইচ্ছেমতো চিত্রায়িত করতে পারে। ফুটবলের হারকিউলিস যেন আরলিং ব্রট হালান্ড।
গত মৌসুমে হালান্ডকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। তাতে একটি নয়, দুটি নয়, তিন তিনটি শিরোপা জেতে সিটিজেনরা। প্রতিপক্ষের গোলমুখে যেন ভয়ংকর দৈত্য বনে যান এই হালান্ড।
.png)
আর গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে মোনাকোর লাল গালিচার সব আলো যেন নিজের করেন নেন এই সিটি স্ট্রাইকার। জিতে নেন উয়েফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে থাকতে গোল করে যোগব্যয়ামের ঢঙে উদযাপন করতেন হালান্ড। তাকে খোঁচা মারার কাজটা তখন সিটির অনেক খেলোয়াড়ই করতেন। কেবল সিটি নয় প্রিমিয়ারে লিগেও ভাইরাল হয় সেই আইকনিক উদযাপন। যেটা পেপের চোখেও ধরা দেয়।
এটা নিয়ে ড্রেসিংরুমে ছাত্রদের শাসিয়ে ক্ষান্ত হননি গার্দিওলা। তার মাথায় চেপেছিল হালান্ডকে ম্যানসিটিতে আনার ভূত। এরপরের গল্প তো সবারই জানা। ডর্টমডু থেকে ৬০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে তাকে ইংল্যান্ডে উড়িয়ে আনা হয়। এসেই বাজিমাত।
যারা এতদিন তাকে নিয়ে রসিকতা করতেন তারাও পিঠ চাপড়ে সাদুবাদ জানান। ধীরে ধীরে তাদের বন্ধু হয়ে যান হালান্ডও। ম্যাচ বাই ম্যাচ গোল করতে থাকেন। ম্যানসিটিও নিতে থাকে শিরোপার সুবাস।
একটা সময় যখন এক ম্যাচে ৩ থেকে চার গোল করতেন হালান্ড, কোচ গার্দিওলা অবাক হতেন না। বরং সংবাদ সম্মেলনে বলতেন ওর জন্য এটা কমই। কতটা আত্নবিশ্বাসী, কতটা গোলের জন্য ক্ষুধার্থ ছাত্র হালান্ড সেটা জেনেই তো এমন মন্তব্য করতেন এই কাতালান কোচ।
সেই গার্দিওলার হারকিউলিস এখন ইউরোপ সেরা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-লিওনেল মেসিবিহীন ইউরোপে হালান্ডই যেন নয়া সম্রাট। তাকে টেক্কা দেওয়ার মতো খেলোয়াড়ও আছেন। নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।
তবে কেবল গোল দিয়ে সেরাটা বিচার হয় না। হলে হালান্ডের পাশে তার নামটাও থাকতো। কিলিয়ান যে ক্লাবে সেই পিএসজি প্রতি মৌসুমে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালছে, অথচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কিনারার একবারই যাওয়া হয়েছিল।
এবার তো পিএসজির পথ আরো কঠিন। গ্রুপ পর্বেই বামে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড আর ডানে এসি মিলান। সেদিক থেকে হালান্ডের সুযোগ আবারো সেরার মুকুট জেতার। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে কে জেতে নতুন এই যুদ্ধে।