আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে নেপাল। পরদিন অর্থাৎ ৩১ আগস্ট পাল্লেকেলেতে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আর ২ সেপ্টেম্বর বাইশ গজে লড়াই করবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত-পাকিস্তান। এরপর সূচি অনুযায়ী বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়ানডে ফরম্যাটে আজ থেকে শুরু হওয়া এশিয়া কাপে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো খেলবে। বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান নিয়ে গ্রুপ ‘বি’ এবং ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কোয়ালিফায়ার খেলে আসা নেপাল গ্রুপ ‘এ’ তে খেলবে।
.png)
এবারের আসরের মূল আয়োজক ছিল পাকিস্তান। কিন্তু দেশটিতে গিয়ে খেলতে নারাজ ভারত। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। এ কারণে বিপাকে পড়েছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)।
এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে এশিয়ান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসিসি। তবুও কোনো সুরাহা হয়নি।
একদিকে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে চাইছিল না ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানও হাল ছাড়তে নারাজ। ভেন্যু জটিলতা থেকে রেহাই পেতে ‘হাইব্রিড মডেল’ বেছে নেয় পিসিবি। এ মডেল অনুযায়ী, ভারত ব্যতীত বাকি পাঁচ দলকে খেলতে হবে পাকিস্তানে। শুধুমাত্র ভারত খেলবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
এজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) ও শ্রীলংকান ক্রিকেটের দ্বারস্থ হয়েছিল পিসিবি। তবে বৃষ্টির কারণে সম্মতি জানায়নি বিসিবি, আর অতিরিক্ত গরমের কারণে আফগানিস্তান সুযোগ পায়নি। কেননা তাদের হোম ভেন্যু হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠ।
শেষ মুহূর্তে কোনো উপায় না দেখে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত হাইব্রিড মডেলকেই বেছে নেয় এসিসি। ফলে পিসিবির পাশাপাশি সহ আয়োজকের দায়িত্ব পায় শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড। সে অনুযায়ী, উদ্বোধনী ম্যাচসহ চারটি ম্যাচের আয়োজন করবে পাকিস্তান। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ও ফাইনালসহ ৯টি ম্যাচের দায়িত্ব পেয়েছে শ্রীলংকা। এতে অবশ্য ভারতের সুবিধা হলেও ভ্রমণের ধকল সইতে হবে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বাকি দেশগুলোকে।
চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক এশিয়া কাপে ছয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড-
বাংলাদেশ স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, শেখ মাহেদী হাসান, মোহাম্মদ নাঈম, শামীম হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিব ও এনামুল হক বিজয়।
ভারত স্কোয়াড: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার, শুভমান গিল, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, ঈশান কিষান, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর পাটেল, শার্দুল ঠাকুর, জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ শামি, কুলদ্বীপ যাদব ও প্রসিধ কৃষ্ণা।
পাকিস্তান স্কোয়াড: বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান, আবদুল্লাহ শফিক, ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, ইফতেখার আহমেদ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ নাওয়াজ, উসামা মীর, ফাহিম আশরাফ, হারিস রউফ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সৌদ শাকিল।
শ্রীলংকা স্কোয়াড: দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), পাথুম নিশাঙ্কা, দিমুথ করুনারত্নে, কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, চরিথ আশালঙ্কা, সাদিরা সামারাবিক্রমা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, দুশন হেমন্ত, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, মহেশ থিকসানা, প্রমোদ মাদুশান, কাসুন রাজিথা, বিনুরা ফার্নান্দো ও মাথিশা পাথিরানা।
আফগানিস্তান স্কোয়াড: হাশমতউল্লাহ শাহিদী (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, রিয়াজ হাসান, রহমত শাহ, নয়লী জাদরান, মোহাম্মদ নবি, ইকরাম আলিখিল, করিম জানাত, গুলবাদিন নায়েব, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, নূর আহমদ, শরিফউদ্দিন আশরাফ, ফজল হক ফারুকী, আবদুর রহমান, এস সাফি।
নেপাল স্কোয়াড: রোহিত পৌডেল (অধিনায়ক), মোহাম্মদ আসিফ শেখ, কুশাল ভুরটেল, ললিত নারায়ণ, ভিম শারকি, কুশাল মাল্লা, দিপেন্দ্র সিং, সন্দ্বীপ লামিচানে, কারান কেসি, গুলশান কুমার, আরিফ শেখ, সোমপাল কামি, প্রাতিশ জিসি, কিশোর মাহাতো, সুন্দিপ জোরা, অর্জুন সাউদ ও শায়াম ধাকাল।