সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। একই মাঠে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ফলে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে খেলতে নেমেছেন মাশরাফী-সাকিবরা।
এদিন টস জিতে স্বাগতিক কেনিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার দলপতি খালেদ মাসুদ। যার ফলে সিরিজে তৃতীয়বারের মতো প্রথমে ব্যাট করতে নামে সিমবা বাহিনী।
.png)

লজ্জা এড়ানোর ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় কেনিয়া। রানের খাতা খোলার আগে ম্যাচের প্রথম বলেই সৈয়দ রাসেলের ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে কেনেডি ওটিয়েনো। ম্যাচে উইকেট শিকারের উদ্বোধনের পাশাপাশি স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেকটিও ঠুকে দেন এ বাঁ-হাতি মিডিয়াম পেসারই।
কেনিয়া শিবিরে প্রথম আঘাতটা রাসেল করলেও ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। নাইরোবিতে গতির ঝড় তুলে একে একে কেনিয়া ব্যাটারদের প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি।
৫০ ওভারের ম্যাচে নিজের কোটার ১০ ওভার বোলিং করে ২.৬০ গড়ে ২৬ রান দেন ম্যাশ। এর বদলে কেনিয়ার টপ অর্ডার থেকে শুরু করে লোয়ার অর্ডার ধ্বংস করে দেন তিনি। এতে তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। মাশরাফীর আগুন ঝরা বোলিংয়ে মাত্র ১১৮ রানেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

কেনিয়ার দেওয়া ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুল ও শাহরিয়ার নাফীসের উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। পরের ১৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সাকিব আল হাসান ও ফরহাদ রেজার ক্যামিও ইনিংসে ১৩৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম টাইগার্স।
এর আগের দুই ম্যাচেও রান তাড়া করে জেতে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটের সহজ জয় পায় টাইগাররা। পরের ম্যাচে স্বাগতিকদের মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে হারতে বসেছিল সফরকারীরা। তবে মাশরাফীর ৪৩ রানের টর্নেডো ইনিংসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলার বাঘরা।
কেনিয়া সফরে প্রথম দুই ম্যাচে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন মাশরাফী। আর শেষ ম্যাচে একাই নেন ছয়টি উইকেট। এতে তিন ম্যাচে ইকোনোমিকাল বোলিং করে মোট ১২টি নেন। একই সঙ্গে ব্যাট হাতেও ৪৩ রান করেন তিনি। ফলে প্রত্যাশিতভাবেই সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন এ ডানহাতি পেসার।

এতো গেল বিদেশের মাটিতে কেনিয়া বধের গল্প। এ ধোলাইয়ের ঠিক পাঁচ মাস আগেই নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাতেও কেনিয়াকে হোয়াইট ওয়াশের কীর্তি গড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
২০০৬ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফর করে কেনিয়া। সেবার বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লায় কেনিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে স্বাগতিকরা।

সিরিজের প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। যেখানে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনশো রান করে টাইগাররা। এ ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান সংগ্রহ করে হাবিবুল বাশারের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সৈয়দ রাসেল ও মোহাম্মদ রফিকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৩১ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। এদিন ৯১ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শাহরিয়ার নাফীস।
পরের ম্যাচে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে কেনিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। এ ম্যাচেও বল হাতে আলো ছড়ান সৈয়দ রাসেলই। এবার তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উইকেট শিকারের আনন্দে মাতেন মাশরাফী ও আব্দুর রাজ্জাক। তারা দু’জন বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন।
খুলনায় আগে ব্যাট করে ১৬১ রানে থেমে যায় কেনিয়া। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জাভেদ ওমর ও আফতাবের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটের সহজ জয় পায় স্বাগতিক টাইগাররা।

সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। যেখানে তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৩১ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ রফিক ঘূর্ণিতে ২১১ রানেই থেমে যায় সফরকারী কেনিয়া। এতে ২০ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে নতুন ইতিহাস গড়েন হাবিবুল বাশার-মোহাম্মদ রফিকরা। চার ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-কেনিয়া। এ ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৩২ রান করে সফরকারী দল।
ইতিহাস রচনার ম্যাচে ভুল করেননি টাইগাররা। কেনিয়ার দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজিন সালেহর দুর্দান্ত শতকে নতুন ইতিহাস গড়ে স্বাগতিকরা। ঘরের মাটিতে নিজের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশের কীর্তি গড়েন বাশার-রফিকরা।