ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

এল ক্লাসিকো: চমকপ্রদ ও অবিস্মরণীয় কিছু ঘটনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:১৭, ১৯ মার্চ ২০২৩
এল ক্লাসিকো: চমকপ্রদ ও অবিস্মরণীয় কিছু ঘটনা
ছবি: সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার ম্যাচকে বলা হয় এল ক্লাসিকো। আর প্রতিটি এল ক্লাসিকোই যেন একেকটা আখ্যান। তবেকিছু ম্যাচ বা কিছু ঘটনা আছে যেগুলো এল ক্লাসিকো ইতিহাসেই উল্লেখযোগ্য, আজ এমনই কিছু ঘটনা নিচে দেওয়া হলো। 

ডি স্টেফানো আর ক্রুয়েফে যুগাধিপত্য দুই ক্লাবের
১৯৫০ সালের দিকে আর্জেন্টিনায় খেলতে থাকা সেরা প্রতিভা আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর দিকে শ্যেনদৃষ্টি পড়ে রিয়াল-বার্সা দুই ক্লাবেরই। তবে চুক্তিগত ঝামেলা ছিল এমন যে, স্টেফানোর মালিকানা দুই ব্যবসায়ী পক্ষের অর্ধেক করে ছিল। একপক্ষ রিয়ালের কাছে ৫০ ভাগ বিক্রি করে, আর অপর পক্ষ বার্সার কাছে! লেগে যায় ধুন্ধুমার ঝামেলা দুই ক্লাবে।

Advertisement

শেষাবধি এমন প্রস্তাবও আসে যে, উভয় ক্লাবেই এক মৌসুম করে উল্টে-পাল্টে খেলতে হবে! কিন্তু ডি স্টেফানো শেষপর্যন্ত রিয়ালে যোগ দেন, এখানেও শাসকগোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের গুজব আছে। স্টেফানো হয়ে যান রিয়ালের সর্বকালের সেরা। রিয়ালে যোগ দেয়ার সপ্তাহখানেক পরের এল ক্লাসিকোতে বার্সার সাথে ৪টি গোল করে বার্সাকে ৫-০ গোলে হারান। স্টেফানোর হাত ধরে রিয়াল টানা ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতে। স্পেন ও ইউরোপে রিয়ালে একচ্ছত্রাধিপত্য তৈরি হয়।

রিয়াল ১১-১ বার্সেলোনা

১৯৪৩ সাল। কোপা দেল রে সেমিতে মুখোমুখি রিয়াল ও বার্সা।  প্রথম লেগে রিয়ালকে ৩-০ গোলে হারায় বার্সেলোনা। তবে সেই প্রতিশোধ যে অন্যভাবে নিবে রিয়াল সেটা হয়তো জানা ছিল না বার্সার। ফিরতি পর্বে বার্সাকে ১১-১ গোলে হারিয়ে ছিল রিয়াল। ম্যাচের পরিবেশটা বার্সার জন্য ছিল এক নরকের মতো। তবে সেই ম্যাচটি হয়তো ভুলতে পারবে না বার্সা। তবে কথিত রয়েছে সে ম্যাচে কিছু কয়েন উড়ে আসছিল যে, বার্সা গোলরক্ষক নিজের লাইন ছেড়ে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে কোনো কয়েন গায়ে না লাগে। তবে রিয়াল জয় পায় ১১-১ গোলের ব্যবধানে। 

দাঁড়িয়ে অভিবাদন
রোনালদিনহোর বার্সেলোনা রিয়ালের মাঠে আসেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে সেরা ফর্মে থেকে, লা লীগায় তখন বার্সার দাপট। সেদিন রিয়ালের মাঠে সম্ভবত তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় খেলাটি দেন রোনালদিনহো। মাঝমাঠ থেকে দুইবার একই কায়দায় বল নিয়ে পুরো ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে গোল করেন দু-দুটি। সেদিনের ম্যাচটি রামোসের জন্য ছিল দুঃস্বপ্ন। ৩-০ গোলে হারার পরও মন্ত্রমুগ্ধ এক বার্নাব্যু স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় বার্সা জাদুকরকে।

গার্ড অব অনার
প্রথমে গার্ড অব অনার ব্যাপারটা একটু খোলাসা করা যাক। রীতি হলো, লীগ চলাকালীন কোনো দল যদি কয়েক ম্যাচ হাতে রেখেই লীগ জয় গাণিতিকভাবে নিশ্চিত করে ফেলে, তবে বাকি ম্যাচগুলো যেসব দলের সাথে, তারা ম্যাচ শুরুর আগে দুটো লাইন করে চ্যাম্পিয়ন হতে যাওয়া দলকে অভিবাদন জানায়। ২০০৮ সালে রিয়াল বার্সেলোনার আধিপত্য ভেঙে লীগ জয় নিশ্চিত করে ফেলে কয়েক ম্যাচ হাতে রেখেই, যার মধ্যে একটি ছিল বার্নাব্যুতে বার্সার সাথে। রীতি মেনে বার্সাও রিয়ালকে গার্ড অব অনার দেয়। ফেভারিটের মতো খেলেই রিয়াল সেই ম্যাচ ৪-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।

আর ইতিহাস বলছে, আট নয়, ১১ গোলে হারের রেকর্ডও রয়েছে বার্সার কলঙ্কিত অধ্যায়ে। ৮০ বছর আগের সেই স্মৃতি ২০২০ সালের সর্বশেষ ৮ গোল হজমের যন্ত্রণাকে কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে পারে। 

সেই বছরে প্রতিপক্ষ সেভিয়ার কাছে ১১ গোল হজম করেছিল বার্সেলোনা। জবাবে মাত্র একটি গোল শোধ করতে পেরেছিল কাতালানরা এটি ছাড়াও বেশি গোলের ব্যবধানে বার্সা আরও চারবার হেরেছিল বিভিন্ন দলের কাছে।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক বার্সার বাজে পাঁচ হার-

সেভিয়া ১১-১ বার্সেলোনা (লা লিগা, ১৯৪০)

সেদিন ১০ মিনিটে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা। পরে সেভিয়া ২৩ থেকে ৮৩ মিনিটের মধ্যে দেয় ১১ গোল। যে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত এটিই বার্সার সবচেয়ে বাজে হার।

রিয়াল মাদ্রিদ ৮-২ বার্সেলোনা (লা লিগা, ১৯৩৫)

চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও ৮ গোলে হেরেছিল বার্সা।  সময়টি ১৯৩৫ সালের লা লিগায়।  ম্যাচটিতে মূলত দুই খেলোয়াড়ের কাছে হেরে গিয়েছিল গোটা বার্সা দল। রিয়ালের ফার্নান্দো সানুদো করেছিলেন ৪ গোল। আর জেইমি লাজকানো করেন হ্যাটট্রিক।

বায়ার্ন মিউনিখ ৮-২ বার্সেলোনা (চ্যাম্পিয়নস লিগ কো. ফাইনাল, ২০২০)

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এক ম্যাচে এটিই সবচেয়ে বড় হার বার্সেলোনার। এর আগে ২০১৩ সালে দুই লেগ মিলিয়ে বার্সাকে ৭ গোল দিয়েছিল বায়ার্ন। এবার এক ম্যাচেই ৮ গোল হজম করল তারা।

লিভারপুল ৪-০ বার্সেলোনা (চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল, ২০১৯)

গত বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে ঘরের মাঠে বার্সেলোনা ৩-০তে জিতে এগিয়ে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে ৪ গোল হজম করে বার্সা। ইনফর্ম সালাহকে ছাড়াই খেলেছিল সেদিন অলরেডরা। এরপরও এমন নাস্তানাবুদ হয়েছিল বার্সা।

এসি মিলান ৪-০ বার্সেলোনা (চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, ১৯৯৪)

১৯৯৪ চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা ও এসি মিলান দুই দলই ৩-০ ব্যবধানে সেমিফাইনাল জিতেছিল। তাই অনেকের আশা ছিল দারুণ এক ফাইনাল হবে। ফেভারিট ছিল বার্সা। কিন্তু মিলান ম্যাচটি ৪-০তে জিতে নেয়।

চলতি বছরের তৃতীয় এল ক্লাসিকো লড়াই আজ। আগেই দুটি লড়াইয়ে দুটিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। বছরের প্রথম লড়াইটি হয়েছিল ১৫ই জানুয়ারী সুপার কাপের ফাইনালে। সেখানে ১-০ গোলে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জিতে বার্সা। দ্বিতীয় লড়াইটি হয়েছিল চলতি মাসের ২রা তারিখে কোপা দেলের প্রথম লেগের সেমি-ফাইনালে। সেখানে রিয়ালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল বার্সা।

তথ্যসূত্র: গোল ডট কম

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!