ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ খেলা ]

সুস্থ থাকা আল্লাহ্‌র নেয়ামত, শুকরিয়া জানানো উচিত: মাশরাফী

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:০৪, ১৮ জুলাই ২০২০
সুস্থ থাকা আল্লাহ্‌র নেয়ামত, শুকরিয়া জানানো উচিত: মাশরাফী
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা

জুনের ২০ তারিখে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। দীর্ঘ ২৪ দিনের লড়াই শেষে গত ১৪ জুলাই পরিপূর্ণভাবে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমকে নিজের করোনাকালীন সময়ের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

শুরুর কয়েকদিন নানাভাবে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন বলে জানান মাশরাফী। তিনি বলেন, ‘শুরুর কয়েকদিন শরীরে নানা প্রতিক্রিয়ায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি টের পেয়েছি। জ্বর ও গা ব্যথা ছিল। থেকে থেকে মাথা ব্যথাও ছিল। দাঁড়ালে বা ঘরে হাঁটাচলা করলে মাথা ঘুরতো। এসব অবশ্য টুকটাক হওয়ারই কথা ছিল। ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেছি। রোজ একগাদা ওষুধ খেতে হয়েছে, খুবই বিরক্তিকর।’

এসময়ের খাদ্যাভাস সম্পর্কে জানিয়ে সাবেক টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘কয়েক দিনের জন্য খাবারের স্বাদ চলে গিয়েছিল। তখন অনেকটা জোর করে খেতে হয়েছে। ভাত খাওয়া তো বাদই দিয়েছিলাম। কিন্তু কোভিডের কারণে যে শারীরিক দুর্বলতা সেটা কাটাতে নিয়মিত ভাত ও জুস খেতে হয়েছে।’

এসময় নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনায় মাশরাফী বলেন, ‘এই সময়টায় শারীরিক সমস্যা খুব বড় কিছু হয়নি। মাঝেমধ্যে একটু শ্বাসকষ্ট হয়েছে বটে, তবে অ্যাজমার কারণে এমনিতেই সেটা অনেক সময় হয়। জানতাম এই সময় সাহস রাখা জরুরি। ছোট থেকেই আমার কখনো এই জিনিসটির অভাব ছিল না। ছেলেবেলা বা বড়বেলা, মাঠের ভেতরে বা বাইরে সবসময় সাহস আর আত্মবিশ্বাসই আমাকে এগিয়ে নিয়েছে। এবারও এটিই ছিল বড় সম্বল।’

তবে মাঝে মাঝে খারাপ লাগার কথা লুকাননি মাশরাফী। তিনি বলেন, ‘প্যানিক অ্যাটাক যে একেবারেই হয়নি, তা বললে মিথ্যে বলা হবে। দু-একবার হয়েছে, বিশেষ করে রাতের নির্জনতায়। তবে তা খুব বেশি সময় পাত্তা পায়নি। ভয়টাকে পেয়ে বসতে দিলেই তো শরীর খারাপের সুযোগ বেশি থাকে। মনকে দ্রুতই অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছি।’

এই সময়টা মনের সঙ্গে লড়াই করেই কাটিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল মনের সঙ্গে। একটা ঘরে বন্দি থাকা মানে আমার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি। খুব বড় সমস্যা না থাকলেও শারীরিক কিছু অস্বস্তি তো ছিলই। সঙ্গে এই মানসিক যন্ত্রণা আর অসহায়ত্ব। চাইলেও অনেক কিছু করার সুযোগ নেই।’ 

করোনার এই সময়ে নিজের নতুন উপলব্ধির কথা জানিয়ে মাশরাফী যোগ করেন, ‘সব মিলিয়ে বারবার উপলব্ধি হলো, মানুষ হিসেবে আমাদের কত সীমাবদ্ধতা। নতুন করে বুঝেছি, জীবন আসলে কত সুন্দর। সুস্থ থাকতে পারা, স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারা অনেক বড় নিয়ামত, আল্লাহর কাছে নিয়মিত শুকরিয়া জানানো উচিত।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!