ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

মহাশূন্যে গেলেই ফুলে উঠছে মস্তিষ্ক, চাঞ্চল্যকর তথ্য গবেষণায়

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:২৭, ১২ জুন ২০২৩
মহাশূন্যে গেলেই ফুলে উঠছে মস্তিষ্ক, চাঞ্চল্যকর তথ্য গবেষণায়
ফাইল ছবি

অভিযান শেষে ফিরে আসা মহাকাশচারীদের মস্তিষ্কের কোষ ফুলে গেছে। সম্প্রতি মহাকাশযাত্রীদের নিয়ে এক গবেষণায় উঠে এল চমকে দেওয়ার মতো এমন তথ্য। বিভিন্ন মহাকাশ অভিযান থেকে ফিরে আসা মহাকাশযাত্রীদের মধ্যে ৩০ জনকে নিয়ে এই পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়।

মস্তিষ্কের মধ্যে থাকা ভেন্ট্রিকল নামের একটি গহ্বরই আকারে বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে ফুলে উঠেছে মস্তিষ্ক। এমনকী খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক স্বাভাবিক জায়গা থেকে কিছুটা উপরে উঠে গেছে। যাদের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়, তাদের মধ্যে কেউই এক বছরের বেশি থাকেননি মহাশূন্যে। ফলে বেশি সময় থাকলে কী হতে পারে সেই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

কেন এমন ঘটনা ঘটছে? বিজ্ঞানীরা জানান, মহাশূন্যে পৃথিবীর মাধ্যকর্ষণ বল কাজ করে না। এর ফলে কোনওকিছুর উপরেই নিয়ন্ত্রণ থাকে না মাধ্যকর্ষণ বলের। সেই কারণেই মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল ফুলে গিয়েছে। একইসঙ্গে বিজ্ঞানীরা বলেন, এর মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের তরল থাকে। সেই তরল মস্তিষ্কে জলের ভারসাম্য ঠিক রাখে। এমনকী মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। এর থেকে মস্তিষ্কের কী বিপদ হতে পারে তা এখনও জানা যায়নি।

Advertisement

তবে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর মস্তিষ্ক স্বাভাবিক হতে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০ জন মহাকাশযাত্রীদের উপর এই পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে আটজন দুই সপ্তাহ মহাকাশে ছিলেন। ১৮ জন মহাকাশে ছয় মাসের অভিযান সম্পূর্ণ করে ফিরেছেন। অন্যদিকে চারজন পুরো এক বছর কাটিয়েছেন পৃথিবীর কক্ষপথে। 

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক র‌্যাচেল সিডলার বলেন, ‘মহাকাশচারীরা মহাকাশে যত বেশি সময় কাটাচ্ছেন, ততই ফুলে যাচ্ছে মস্তিষ্ক।’ তবে পরীক্ষানিরীক্ষার পর দেখা গিয়েছে, দুই সপ্তাহ কাটিয়ে ফেলার পর মস্তিষ্কের বড়সড় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। ছয় মাস পর এই বদল থেমে যায় বলেই অনুমান বিজ্ঞানীদের। এই ঘটনার ফলে তাদের মত, মহাকাশে বেশি সময় কাটালেও মস্তিষ্কে এর থেকে বেশি প্রভাব পড়বে না। এক দিক থেকে এটা ভালো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু এই পরিবর্তন উত্তরোত্তর বাড়ছে না, তাই কোনওরকম বিপদের আশঙ্কাও কম বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!