উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯৮.০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় মোট গ্রাম রয়েছে ১৩০টি। এরমধ্যে ছোট বড় পুকুরসহ প্রজেক্ট রয়েছে ২,৩৪৮টি, বিল রয়েছে ১৩টি, নদী ৩টি, খাল ৩টি ও প্লাবন ভূমি রয়েছে ৮টি। পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় ৪৩০টি ছোট বড় পুকুর পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে ৪৫৬.৭৯০ মেট্রিক টন মাছ। যার মধ্যে পোনা মাছ রয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ। বড় মাছের মূল্য ধরা হয়েছে ৯ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার, পোনা মাছ ৩ কোটি ৪৫ লাখ এবং অবকাঠামো ১০ লাখসহ মোট ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
স্থানীয় মৎস্য চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত ভারী বর্ষণ, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও হাওড়া বাঁধ ভেঙে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দু’পাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর ও মোগড়া এলাকার বাউতলা, উমেদপুর, নীলাখাত, নয়াদিল, টানোয়াপাড়া, নোয়াপাড়া, নুনাসার, বচিয়ারা, ধাতুর পহেলা, কুসুম বাড়ি, আদমপুরসহ অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সময় ওসব গ্রামের ছোট বড় অসংখ্য পুকুর পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে যায়।
.png)
সরেজমিনে উপজেলার আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর, বাউতলা, উমেদপুর, নীলাখাত, নয়াদিল, টানোয়াপাড়া, নুনাসার, পৌর শহরের তারাগন গিয়ে দেখা যায় চাষিদের মধ্যে কোনো কোলাহল নেই। বন্যায় তাদের বেশিরভাগ পুকুর, মৎস্য প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ। ওসব মাছ খাল-বিল-জমিতে ছড়িয়ে পড়ায় শত শত মৎস্য শিকারি জালসহ নানা প্রকারের উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। খবর- ডেইলি বাংলাদেশ
বন্যার কারণে এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগে যে, বন্যায় ভেসে আসা মাছ ধরা-খাওয়া জায়েজ কি?
প্রশ্নের উত্তরে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বন্যার পানিতে যেমন নদীর মাছ ভেসে আসে, ডুবে যাওয়া অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন মাছের খামার বা পুকুরের মাছও ভেসে আসে। তাই এসব মাছ ধরা বা খাওয়া জায়েজ হবে কি না, অন্যের হক নষ্ট হবে কি না। বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে পড়ে যান অনেকে।
নির্দিষ্ট মালিকানাধীন কোনো পুকুরের মাছ যদি মালিকানাধীন জায়গা থেকে বের হয়ে নদী বা বন্যার সাধারণ পানিতে চলে যায়, সাধারণ মাছের সঙ্গে মিশে যায় এবং ওই মাছ আলাদা করার, নির্দিষ্ট মালিক খুঁজে বের করার বা পুকুরে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো উপায় না থাকে, তাহলে ওই মাছের হুকুম নদীর মাছের মতোই হয়ে যায়। ওইসব মাছ ধরা ও খাওয়া জায়েজ হয়ে যায়।
তাই বন্যার পানিতে যেসব মাছ ভেসে আসে, সেগুলো ধরা এবং খাওয়া জায়েজ হবে। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনায় কোনো ক্ষেত্রে যদি মালিকানাধীন পুকুর থেকে মাছ বের হয়ে যাওয়ার পরও মাছের মালিকের পক্ষে ওই মাছ খুঁজে বের করা বা উদ্ধার করার সুযোগ থাকে, তাহলে ওই মাছ ধরা বা খাওয়া জায়েজ হবে না।