ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

তীব্র গরমে এবং বৃষ্টি না হলে যে দোয়া-আমল করবেন 

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪০, ৪ এপ্রিল ২০২৪
তীব্র গরমে এবং বৃষ্টি না হলে যে দোয়া-আমল করবেন 
ছবি: অন্তর্জাল

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মধ্যে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। এই  ঋতুগুলো পালাক্রমে আগমন করে।

শীত ও গ্রীষ্মের ব্যাপারে বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতা আসে জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল্লাহ (সা.) বলেন, জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করে বলে, হে রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। মহান আল্লাহ তখন তাকে ২টি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে, আরেকটি গ্রীষ্মকালে।

দেশে বর্তমানে তীব্র গরম পড়ছে। আবার এর মাঝে অনেক এলাকায় বিদুৎও থাকে না। এর মাঝে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে ওঠছে। এ গরমও আল্লাহর আজাবের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়। তাই আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করা জরুরি। তীব্র গরম শুরু হলে, বৃষ্টি না হলে নবীজি (সা.) দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন বান্দাদের।

Advertisement

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, বৃষ্টি না হওয়ায়, প্রচণ্ড গরম পড়ায় একদিন নবীজি (সা.) এর কাছে কিছু লোক  এলেন। তিনি তাদের জন্য এভাবে দোয়া করলেন,
 

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ ‏

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাসক্বিনা গাইসান মুগিসান মারিআন নাফিআন গাইরা দাররিন আঝিলান গাইরা আঝিলিন’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো’। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়, বৃষ্টি হয়। (আবু দাউদ ১১৬৯, আবদ ইবনু হুসাইদ ১১২৫)

গরমকে আল্লাহর ক্রোধ বলা হয়েছে, আর ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য রাসূল (সা.) দোয়া শিখিয়ে গেছেন, তেমনি একটি দোয়া হলো,
 

اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাওয়ালি নি‘মাতিকা ওয়া তাহবিলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখাতিকা’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নেয়ামতের বিলুপ্তি, আপনার অনুকম্পার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সমস্ত ক্রোধ থেকে’। (মুসলিম ২৭৩৯, আবু দাউদ ১৫৪৫, রিয়াদুস সালেহিন ১৪৭৮)
 
এমন প্রচণ্ড গরমে একপশলা বৃষ্টির জন্য মুমিনরা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। শস্য ফলানোসহ পশুপাখির খাবারের জন্য যেমন বৃষ্টি দরকার, তেমনি তীব্র তাপদাহে সৃষ্ট নানা জটিলতা ও কষ্ট থেকে মুক্তি পেতেও আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি খুবই প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরই দরবারে বৃষ্টি কামনা করে নামাজ পড়া ও দোয়া করা সুন্নত। ইসলামি পরিভাষায় এই দোয়ার নাম ‘ইসতিসকা’ বা সিক্তকরণের দোয়া। এ নামাজের নাম ‘সালাতুল ইসতিসকা’ বা ‘বৃষ্টি কামনায় নামাজ’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!