ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পরীক্ষায় নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় পুলিশ পেটালেন যুবক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২২, ২৪ নভেম্বর ২০১৯
পরীক্ষায় নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় পুলিশ পেটালেন যুবক
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার কেন্দ্রে নকল সরবরাহে বাঁধা দেয়ায় পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে পেটালেন উপজেলার ছলিমাবাদ ইউপির মোজাম্মেল হক অপু নামে এক যুবক। রোববার দুপুর ১২টার দিকে ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যে সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার বাদী হয়ে ওই যুবককে প্রধান আসামি করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মামলা  করেছেন। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা ছিল রোববার। পরীক্ষা চলার সময়ে অপু তার ভাগিনাকে নকল সরবরাহ করতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চায়। এ সময় পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপু পুলিশ সদস্য নজরুলকে ধাক্কা মেরে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে অপু পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে মারধর শুরু করে। এ সময় পরীক্ষার তিনটি খাতা ছিড়ে ফেলে। পরে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। ঘটনার খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়। 

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার বাদী হয়ে মোজাম্মেল হক অপুর নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে অপু পলাতক রয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, একজন ব্যক্তি কেন্দ্রে নকল নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে আমি বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই ব্যক্তি। এক পর্যায়ে আমাকে ধাক্কা মেরে চলে যায় সে। কিছুক্ষণ পর সে ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে এসে সে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে কিল ঘুষি ও লাথি মারে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা এসে আমাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে ওসি স্যার এসে আমাকে নিয়ে যায়। পরে আমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। 

পুলিশ সদস্য নজরুল আরো জানান, যে হামলা করেছিল তার নাম অপু বলে পরে জানতে পারি।

এই ব্যাপারে ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার বলেন, আমরা স্কুলে আমার কক্ষে বসা ছিলাম। হট্টগোল শুনে বাইরে গিয়ে দেখি অনেক লোকজন কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করেছে। সেখানে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে। তারা তিনটি খাতা ছিড়ে ফেলেছে। আমি এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছি।

ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এটিও) কবির হোসেন বলেন, নকল সরবরাহ করতে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে অপু নামে এক যুবক পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এরা সংখ্যায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছিল। তারা তিনটি খাতাও ছিড়ে ফেলে।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদ বলেন, অপুকে নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় তিনি দলবল নিয়ে এসে পুলিশকে মারধর করে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ছলিমাবাদ কেন্দ্রে অপু নামে এক লোক কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে গেলে আমাদের পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে বাধা দেয়ায় তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করাই। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। সেটি বিকেলে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার বলেন, আমি বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আছি। আজকে ছলিমাবাদ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশকে মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে কেন্দ্রে সচিব আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!