২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ২ যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ৩
খুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের মধ্যে দুজন যুবদল নেতা, অন্যজন একটি সিগারেট কোম্পানির কর্মী। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বটিয়াঘাটার চক্রাকালী বাজারে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন যুবদল নেতা মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম বাদল।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী সালমান। আর সোমবার দিবাগত রাতে বটিয়াঘাটায় গুলির শিকার হন আমিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সোহেল শেখ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে চক্রাকালী বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন বাদল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বাদল বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং ১ নম্বর জলমা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী। তার ভাই বাহাদুর মুন্সী জানান, বটিয়াঘাটায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে বাদল চক্রাকালী এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বাদলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। সার্জারি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে তামান্না টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে নাসিম ট্রেডার্সের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সালমান (২৩)। তিনি জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে তার কাছে থাকা একটি ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সোহেল শেখ। তিনি ৭ নম্বর আমিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং বড় কড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম গনি শেখ।
রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তার ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে।