দেশের তাপমাত্রা দিনের পর দিন এমন থাকলে হিট এক্সহশন বা হিটস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। হিটস্ট্রোক একটা মেডিকেল ইমার্জেন্সি এবং অতি দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যুর সম্ভাবনা খুব বেশি।
এ গরমে বেশিক্ষণ বাইরে থাকার কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আমাদের বডি বিভিন্নভাবে তাপমাত্রা কমাতে কাজ শুরু করে দেয়। প্রধানতম পদ্ধতি হচ্ছে, ঘাম তৈরি করা। যখন আমাদের বডির সারফেস থেকে ঘাম ইভাপোরেট হয়ে শুকায়; তা আমাদের শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনে। তবে এ ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর একটা লিমিটেশন আছে। হিউমিডিটি ৭৫ শতাংশের বেশি হলে এ পদ্ধতি খুব একটা কাজ করে না। কিন্তু ঢাকার আজ হিউমিডিটি হচ্ছে ৭৮ শতাংশ! তাহলে ঘেমেও দেহ ঠাণ্ডা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে বাইরে গেলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
.png)
হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্রথমে হয় হিটক্রাম্প। অতিরিক্ত ঘামের কারণে লবণ ও পানি কমে যায় এবং এর প্রভাবে মাসল (বিশেষ করে পায়ের) ক্র্যাম্প (কামড়ানো) শুরু করে। এরপর হচ্ছে হিটএক্সহশন। এটা কিন্তু পর পর কয়েকদিন বাইরে রোদে যাওয়ার পর অথবা প্রথমদিনে রোদে গেলেও আক্রান্ত করতে পারে।
হিট এক্সহশনের লক্ষণ হচ্ছে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, দুর্বলতা, মাথা ধরা, মাথা ব্যথা, বমিবমি ভাব আর ফেইন্ট ভাব হওয়া! ভুলভালও বলাটা স্বাভাবিক।
চিকিৎসা ও করণীয় (হিট এক্সহশন)
# ছায়ায় নিয়ে আসুন রোগীকে। রিহাইড্রেসন করুন। ওরস্যালাইন খাওয়ান। প্রথমে ঠাণ্ডা পানি হলেও চলবে। আশেপাশে পুকুর থাকলে গলা পর্যন্ত পুকুরের পানিতে নামিয়ে দিন। পুকুর না থাকলে বাথটাবে শুইয়ে দিন এবং পানির মধ্যে কিছু বরফ ঢেলে দিন। তাও না থাকলে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করিয়ে দিন তারপর টেবিল ফ্যান দিয়ে শরীর শুকিয়ে দিন। টেম্পারেচার না নামলে আবার ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে দিন এবং ম্যাক্স স্পিড টেবিল ফ্যান দিয়ে শরীর শুকিয়ে দিন। যদি হিট এক্সহসনের ঠিকমতো চিকিৎসা করা না যায়; অথবা ডায়াগনোসিস করা না যায়, তাহলে হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
# যদি দেখা যায় স্কিন শুকনা লাল হয়ে গেছে। ঘাম হচ্ছে না, পালস হাই হয়ে গেছে, রোগী উল্টা-পাল্টা কথা বলছে; অথবা কোনো কথা বলছে না অথবা রোগী অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে; সেটা হিটস্ট্রোক সন্দেহ করুন।
এরপরের ধাপে একের পর এক অর্গান ফেইল করা শুরু করবে। প্রথমে ব্রেইনের নিউরোনগুলো ড্যামেজ হবে। এরপর আমাদের লিভার ও রক্তনালীর সেলগুলোর ড্যামেজ শুরু হবে। ধীরে ধীরে সব অর্গানই ফেইল করবে। রোগী এ অবস্থায় পৌঁছে গেলে উপরের স্টেপগুলো তো নিতে হবেই। যত দ্রুত সম্ভব আইসিইউ আছে- এমন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
# কেউই যেন হিটএক্সহশন পর্যায়ে না যায়, ঘরের বাইরে যেতে হলে সঙ্গে বড় ঠাণ্ডা পানির ফ্লাস্ক বা বোতল রাখুন এবং কিছু পরপর পানি খেয়ে মুখ ভিজিয়ে রাখুন।
# শিশুরা যারা বাইরে স্কুলে যায়, মাঠে দৌড়াদৌড়ি করে তাদেরকে স্কুলে না পাঠানোই ভালো।
# যত হালকা পাতলা খোলামেলা পোশাক পরা যায় তত ভালো। এ সময়গুলোতে ঘরের বাইরে বের না হওয়াটাই সেফ।
# ঘরের ভেতরে রান্না ঘরে একটা রিস্কি এনভায়রনমেন্ট থাকে। গরমের দিন রান্না ঘরের তাপমাত্রা অন্যান্য রুমের চেয়ে অনেক বেশি। তাই মহিলাদের ইফতারি রান্না ইত্যাদির জন্য দীর্ঘ সময়ে রান্না ঘরে না থাকা শ্রেয়।
লেখক: কাজী আরিফ