রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি পৌঁছেছে চরমে। ভারি বৃষ্টিপাত ছাড়া গরমের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
রাজধানী ঢাকায় মূল তাপমাত্রার তুলনায় অনুভূত তাপমাত্রার পার্থক্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোগান্তি বেশি হচ্ছে মানুষের। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ‘বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে।’
.png)
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, এখন তাপমাত্রা যেমন আছে, এটা অ্যালার্মিং। কক্সবাজার আর রাঙামাটি ছাড়া দেশের সব জায়গায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। এই সময়ে তাপমাত্রা বাড়ে। যদিও ভাদ্র মাস চলে গেছে।
তিনি বলেন, এখন তাপপ্রবাহের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আগে এমন হতো, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটা বর্ষাকালেও দেখা যাচ্ছে। এমন তাপমাত্রা আরও দুই দিন থাকবে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর একটা লঘুচাপ হতে পারে। তখন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টি কমবেশি থাকবে। এরপর মৌসুমি বায়ু বিদায় নেবে।
প্রসঙ্গত, গুগলে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা জানতে চাইলে সবার ওপরে সেটি দেখায়। তবে তাপমাত্রার ঠিক নিচে ছোট করে লেখা থাকে “ফিলস লাইক”।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, “ফিলস লাইক” তাপমাত্রা হলো নির্দিষ্ট এলাকার অনুভূত তাপমাত্রার পরিমাপ। অর্থাৎ কোনো এলাকার তাপমাত্রা যেমনই হোক না কেন, পারিপার্শ্বিক আরও বেশকিছু প্রভাবকের কারণে মানব শরীরে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হতে পারে। এই অনুভূত তাপমাত্রাকেই বলা হয় ফিলস লাইক।
আরেকটু খোলাসা করে বললে, পৃথিবীতে সূর্য রশ্মি আসার পর যে তাপমাত্রাটা থাকে, সেটাই ভূপৃষ্ঠের মূল তাপমাত্রা। আর এই তাপমাত্রা যখন ভূমি থেকে বিকরিত হয়ে মানব শরীরে অনুভূত হয়, সেটাই ‘ফিলস লাইক’ বা অনুভূত তাপমাত্রা।
ফিলস লাইক তাপমাত্রাকে বলা হয় হিট ইনডেক্স বা তাপ সূচক। কোনো এলাকার সম্ভাব্য তাপমাত্রার পূর্বাভাস, ওই এলাকার আর্দ্রতা ও হাওয়ার গতিবেগ মেপে ফিলস লাইক নির্ধারণ করা হয়। ভূমি থেকে ৫ ফুট উপরের হাওয়ার গতি মেপে ফিলস লাইক পরিমাপ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করে আবহাওয়া অধিদফতর।