ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]
সংবিধান সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ না করলে আন্দোলন তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি

গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬
গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক
হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গণভোটকে অবৈধ বলা হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই নির্বাচনের ফলাফলও একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার অবস্থান নিচ্ছে না।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশ। তাঁর ভাষায়, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে একটি গ্রহণ করা হবে, আর অন্যটি প্রত্যাখ্যান করা হবে, এমন অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাসে অনুষ্ঠিত ৮৩টি অধিবেশনে তাঁদের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মেধার ভিত্তিতে চাকরি ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ পাওয়া যাবে। দলীয় আনুগত্য, তদবির কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আরেকটি লক্ষ্য ছিল দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানো এবং ভবিষ্যতে নতুন করে ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান ঠেকানো। এ লক্ষ্যেই জুলাই জাতীয় সনদে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির পথ বন্ধ করার বিভিন্ন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারকে সময় দেওয়ার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, তাঁরা সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে চান। এমনকি পাঁচ বছর পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে না যাওয়ার কথাও বিবেচনা করতে প্রস্তুত, যদি সরকার সংবিধান সংস্কার, বৈষম্য দূর করা এবং ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়।

তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মামুনুল হক বলেন, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র চলতে দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, এসব সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন ধীরে ধীরে আরও তীব্র হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এত রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন করে আরেকটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম দেওয়ার জন্য মানুষ জীবন দেয়নি। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না হলে বিএনপি ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ এবং কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমানসহ অন্যরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: হবিগঞ্জ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!