ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

সরকারি প্রকল্পে ওভারল্যাপিং বন্ধের তাগিদ: শিল্পমন্ত্রী

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:২৭, ১ অক্টোবর ২০২৬
সরকারি প্রকল্পে ওভারল্যাপিং বন্ধের তাগিদ: শিল্পমন্ত্রী
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি সংগ্রহীত

দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের মিল রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।

Advertisement

মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়, আর এনএসডি মূলত একটি নিয়ন্ত্রক বিষয়। তাই দুটিকে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন ব্যাহত হতে পারে।

এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রকল্পের প্রস্তাব পাওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো গেলে এডিপি বাস্তবায়নে সৃষ্ট অদক্ষতার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই দেশীয় শিল্পকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সংযোগ তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতা থেকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব নয়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে দেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা শুধু শিল্পকারখানায় বেশি পণ্য উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতও দেখিয়েছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে শুধু দক্ষতার ঘাটতিই নয়, নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পের অভাবও বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক, এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!