ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস, সপ্তাহজুড়ে নানা আয়োজন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস, সপ্তাহজুড়ে নানা আয়োজন
ছবি: সংগৃহীত

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাইকেল র‌্যালি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সিটি ট্যুর, পর্যটন খাতের অংশীজন ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভা। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থা এবং পর্যটন খাতের সরকারি-বেসরকারি অংশীজন এসব আয়োজনে অংশ নেবেন।

Advertisement

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার সকাল ৯টায় পশ্চিম আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার পর্যটন ভবনের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হবে। এর উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় হবে সাইকেল র‌্যালি।

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সিটি ট্যুরের উদ্বোধন করা হবে। গাইডেড এই ট্যুরের মাধ্যমে শিশুরা ঢাকার বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।

আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় পর্যটন ভবনের ১০ম তলার সম্মেলন কক্ষে পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর একই স্থানে পর্যটক-উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।

শনিবার মূল আয়োজন

আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন। দুপুর আড়াইটায় ১২টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে।

এসব স্টলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, জিআই পণ্য, কারুশিল্প, ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য এবং আবহমান বাংলার জীবনধারা তুলে ধরা হবে। প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদর্শনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও দেখানো হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রে ছবি তোলার বিভিন্ন ধারণাও প্রদর্শন করা হবে।

বিকেল ৩টায় শুরু হবে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিবের শুভেচ্ছা বক্তব্যের ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হবে।

প্রতিপাদ্য বিষয়ে উপস্থাপনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন। আলোচনা সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বক্তব্য দেবেন।

প্রথমবার দেওয়া হবে পর্যটন পুরস্কার

এবারের আয়োজনে প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ পুরস্কার দেবে।

টেকসই পর্যটন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে।

এদিকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাটও সম্প্রতি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ার অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, পর্যটন কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরও সহজ, নিরাপদ ও মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যটন খাতকে আধুনিক ও ভূমিসাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, আইন ও নীতিমালা আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের কাজ চলছে। পাশাপাশি পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটন উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!