রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম চূড়ান্ত
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। দলীয়ভাবে আগামী ১২ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগে ১ আগস্ট স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে রোববার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলটির পক্ষে ফরম দুটি সংগ্রহ করেন।
.png)
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে ১১ দলীয় বিরোধী জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ১৩ আগস্ট। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছেন।
মির্জা ফখরুল দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৯০-এর দশকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হন। দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম সামনে এসেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। সংবিধান অনুযায়ী শূন্য পদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।