খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সেটলার কর্তৃক পাহাড়িদের ওপর হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহবাগ চত্বরে এ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন দেড় থেকে ২ হাজার মানুষ। এতে নেতৃত্ব দেনে পাহাড়ি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অংকন চাকমা।
বিক্ষোভ মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ চত্বরে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় শাহবাগ এলাকার চতুর্দিকের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের আশ্বাসের তারা শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে তাদের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করবেন বলে জানা যায়।
তাদের ৭ দফা দাবি হলো-
- দীঘিনালা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আক্রান্ত জুম্মরাসহ খাগড়াছড়িও তিন পার্বত্য জেলার জম্মু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ জানমাল রক্ষা করতে হবে।
- জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত কমিশন গঠন করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
- সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
- জুম্মদের ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধবিহার দোকানপাট ও বাড়ি ঘরের মালিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- স্থানীয়ভাবে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায় অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বরখাস্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেনা সেটলারদের প্রত্যাহার করতে হবে।
- পার্বত্য সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিতকরণে ৬ মাস সময়ের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে পাহাড়ি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগরের সভাপতি জগদীশ চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্র কমিটির সাবেক সভাপতি সুনয়ন চাকমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি নিপুন ত্রিপুরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।