মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সেনাপ্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীর অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে শৃঙ্খলার সঙ্গে অবিরামভাবে কাজ করে দেশকে একটি সুন্দর অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য সব অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সৈনিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেনাপ্রধান।
.png)
এ সময় তিনি ১৮ ইস্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন আশিকের প্রশংসা করে বলেন, ‘ক্যাপ্টেন আশিক খুব সুন্দরভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। ১৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক ও অন্য আরেকটি পরিস্থিতি সুন্দরভাবে সামাল দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে শক্তিশালী, যিনি তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।’
বিশেষ পরিস্থিতিতে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে ৬২৬ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে আইজিপিসহ ৪২৭ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন বলে জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
তিনি বলেন, এটা করা হয়েছিল শুধু তাদের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের জন্যে।
সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ বাহিনীর পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে। গত ১ মাস ধরে ৪১,০০০ এর অধিক সেনাসদস্য সারাদেশে মোতায়েন রয়েছে। তারা সবাই জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। দেশের স্বার্থে আরো বেশ কিছুদিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখতে হতে পারে। আমরা কখন সেনানিবাসে ফিরে আসবো তা নির্ভর করছে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।
তিনি বলেন, সর্বাবস্থায় আমাদের সহনশীল আচরণ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। কেবলমাত্র সহনশীল আচরণ করলেই সবাই আপনাদের শ্রদ্ধা করবে।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এখন পর্যন্ত বেশকিছু অবৈধ অস্ত্র বাইরের লোকজনের কাছে রয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। আবেগতাড়িত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধানে তাদের বিভিন্ন উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও বলেন তিনি।
উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদবির সেনা সদস্যদের তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় না জড়ানোর নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ফেৎনা সৃষ্টি করা হলো হত্যার চেয়ে বড় অপরাধ। আমাদের সবাইকে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে হবে এবং পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখতে হবে।
একটি দীর্ঘস্থায়ী সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় আহত ছাত্র-ছাত্রীদের সুচিকিৎসার জন্যে ঢাকা সিএমএইচ ও কুর্মিটোলা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও পাবলিক স্কুল ও কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।