ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

অনিয়মের বরপুত্র বিআইবিএমের শাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৩৩, ২৩ মে ২০২৪
অনিয়মের বরপুত্র বিআইবিএমের শাহীন
এ কে এম শাহীনুজ্জামান- ফাইল ফটো

* ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ৫০ বছরের সুনাম 
* ডিজির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ভয়ে মুখ খোলেন না কেউ
* ডিজির ছেলেকে আইফোন, মেয়েকে দেন আমেরিকা যাওয়ার টিকিট
* ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মূলহোতা
* আতঙ্কে থাকে নিয়োগ পরীক্ষা কমিটি
* কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর বরাবর অভিযোগ দায়ের

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সহকারী প্রোগ্রামার ও সংস্থার মহাপরিচালকের স্টাফ অফিসার এ কে এম শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বিআইবিএমের নিয়োগ পরীক্ষা কমিটি-২ এর সমন্বয়ক অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন ছিদ্দিক।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন অভিযোগপত্রে বলেন, একজন কর্মকর্তার নিয়োগ এবং পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে বিআইবিএমের ৫০ বছরের অর্জিত সুনাম এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সদ্যসাবেক এক মহাপরিচালক ও বর্তমান মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন কম্পিউটার অপারেটর এবং বর্তমান ডিজির স্টাফ অফিসার এ কে এম শাহীনুজ্জামান। নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষার দুর্নীতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সব অনুষদ সদস্য জেনে থাকলেও মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলেন না।

Advertisement

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, সর্বশেষ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালভিত্তিক সিনিয়র অফিসার পদে ভয়াবহ নিয়োগ বাণিজ্য হয়। এ কারণে বিআইবিএম এখন ভীষণ ইমেজ সংকটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোদাগাড়ীর হতদরিদ্র ১০ ভাই-বোনের পরিবারের সন্তান ব্যাংকের নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষার কাজ করে হয়ে গেছেন বিআইবিএমের শীর্ষ ধনী। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার মতো। এ বেপরোয়া দুর্নীতিবাজকে থামাবে কে? কেননা, মহাপরিচালক ও তার পরিবারের সদস্যদের অতি ঘনিষ্ঠ স্টাফ অফিসার এ কে এম শাহীনুজ্জামান। এখন বিআইবিএমের অনুষদ সদস্যরা তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইবিএমের একাধিক অনুষদ সদস্য গণমাধ্যমে বলেন, ডিজির স্টাফ অফিসার হওয়ায় শাহীনুজ্জামানের এ দুর্নীতির বিষয়ে কেউ কথা বলেন না। নতুন ডিজি এলে শাহীনুজ্জামান তাদের যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে ফেলেন। ডিজি ম্যানেজ হতে না চাইলে তার পরিবারের সদস্যদের ম্যানেজ করা হয়। বর্তমান ডিজি ড. মো. আখতারুজ্জামানের বড় ছেলের সঙ্গে শাহীনুজ্জামানের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কাজে লাগাতে ডিজির ছেলেকে আইফোন ও মেয়েকে আমেরিকা যাওয়ার টিকিট উপঢৌকন হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়া নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য থেকে হাতানো অর্থ ডিজিকে ভাগ দেন শাহীনুজ্জামান।

তারা আরো বলেন, কম্পিউটার অপারেটর থেকে সহকারী প্রোগ্রামার হওয়া শাহীনুজ্জামান বর্তমানে অঢেল সম্পদের মালিক। বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি সবই আছে তার। তিনি অফিসে যাতায়াত করেন ব্যক্তিগত দুটি গাড়ি দিয়ে। গভর্নরের কাছে অভিযোগ যাওয়ায় তিনি আপাতত কোনো গাড়ি ব্যবহার করছেন না। শাহীনুজ্জামানকে রক্ষা করতে বর্তমান ডিজি সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছেন।

প্রশ্নফাঁসের মূলহোতা শাহীনুজ্জামান-
২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালভিত্তিক সিনিয়র অফিসার, আইডি নং-১০১৮০; যেখানে ৯২২ জনের নিয়োগের জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে স্টাফ অফিসার শাহীনুজ্জামান একটি বড় ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হন। প্রশ্ন ফটোকপি কক্ষে পরীক্ষা কমিটির বাইরে কারও মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু মহাপরিচালকের স্টাফ অফিসার শাহীনুজ্জামানকে গার্ডদের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও তিনি মোবাইল নিয়ে ভেতরে যান। সেমিনার কক্ষে বিভিন্ন কেন্দ্রের জন্য ওএমআর প্যাকেটিং তার দায়িত্বে না থাকলেও তিনি জোরপূর্বক তার সিন্ডিকেটের বাইরের লোকজনকে কৌশলে সরিয়ে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে (মহানগর মহিলা কলেজ) প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওএমআর প্যাকেটিং করান। পরবর্তীতে ঐ কেন্দ্রে তিনি ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে- কেন্দ্রটি থেকে পরবর্তীতে ওএমআর স্ক্যান করার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আসা কর্মকর্তারা ১৫৩টি ব্ল্যাঙ্ক ওএমআর উদ্ধার করেন। যেখানে ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর আছে। এসব ভুয়া ওএমআর স্বাক্ষর শাহীনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। এর আগেও বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক অতুল চন্দ্র পন্ডিত এ ধরনের ওএমআর মেশিনে রিড করার সময় হাতেনাতে ধরেন। কিন্তু মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কিছুই করা হয়নি। 

সম্প্রতি বিআইবিএম মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একটি পদোন্নতি পরীক্ষা পরিচালনা করে। ৯০০ জনের ঐ পদোন্নতি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশারেফ হোসেন। মহাপরিচালকের নির্দেশে এ কে এম শাহীনুজ্জামানকে টিমে নিয়ে কাজটি করতে গিয়ে বিপদে পড়েন ড. মোশারেফ। অভিযোগ রয়েছে, শাহীনুজ্জামানের মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ফেসবুকে চলে আসে। পরবর্তীতে রাত ১২টায় আবার নতুন প্রশ্ন তৈরি করে প্রিন্ট দেওয়া হয়।

২০১৪ সালে অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শাহীনুজ্জামানের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি তথ্য সামনে আসে। ঐ সময় এক লাখের বেশি প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। পরীক্ষার সমন্বয়কের দায়িত্বে থেকে শাহীনুজ্জামান প্রশ্নফাঁস করেন। পরবর্তীতে সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরীক্ষার আগেই বিআইবিএম ও অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ই-মেইলে অভিযোগসহ প্রশ্ন চলে আসে। সেই থেকে সরকারি ব্যাংকের এবং সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব তাদের দেওয়া বন্ধ হয়। বর্তমানে আবার বিআইবিএমের মাধ্যমে সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রশ্ন জালিয়াতি করা সেই শাহীনুজ্জামানকে আবারও পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ডিজির মদদে অপ্রতিরোধ্য শাহীনুজ্জামান:
বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. আখতারুজ্জামানের নির্দেশে নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষার সব দায়িত্ব পান স্টাফ অফিসার এ কে এম শাহীনুজ্জামান। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাপরিচালকদের (ড. তৌফিক ও ড. আখতারুজ্জামান) সঙ্গে তার পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার কারণে একচেটিয়া নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষার কাজ পেয়েছেন এই স্টাফ অফিসার। 

ডিজির ছেলে-মেয়েকে আইফোন ও বিমানের টিকিট উপহার:
বিআইবিএমের সব নিয়োগ ও ব্যাংকের পদোন্নতি পরীক্ষা সমন্বয় করতে গিয়ে প্রশ্নফাঁস করেন শাহীনুজ্জামান। প্রত্যেক পরীক্ষায় ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত টার্গেট করেন তিনি। যা বিআইবিএমের সব পর্যায়ে ওপেন সিক্রেট। সম্প্রতি ওয়ান ব্যাংকের স্পেশাল ক্যাডার অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শাহীনুজ্জামানের অর্থ লেনদেনের অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। যেটি এখন অনেকের কাছে রয়েছে। বিষয়টি বর্তমান ও সাবেক মহাপরিচালককে বলা হলেও তারা তা আমলে নেননি। কারণ, মহাপরিচালকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শাহীনুজ্জামানের রয়েছে বিশেষ সখ্যতা। বিশেষ করে বর্তমান ডিজির বড় ছেলের সঙ্গে রয়েছে তার বিশেষ খাতির। মহাপরিচালকের মেয়ের বিদেশ যাওয়া থেকে শুরু করে বিমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সব খরচ বহন করেন এ স্টাফ অফিসার।

২৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক:
শাহীনুজ্জামান নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য করে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তার রয়েছে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি। নিজের ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের হোন্ডা সিভিক এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৮০ লাখ টাকা দামের জিপ গাড়ি। বিআইবিএমের সবচেয়ে দামি মোটরসাইকেলেরও মালিক শাহীন। থাকেন রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে। যেখানে ভাড়া দেন তার বেতনের চেয়েও বেশি। রাজধানীসহ রাজশাহীতে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। রাজধানীর ৬০ ফিটে লেগুনা স্ট্যান্ডের গির্জার পাশে নির্মাণাধীন সুউচ্চ ভবনের ১০ থেকে ১২টি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। এর মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি। মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে দিয়াবাড়ীতে রয়েছে ১০ কাঠা ও ছয় কাঠার দুটি প্লট। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকার বেশি।

উত্তরার ১৬নং সেক্টরের মাথায় তার ছয়তলা একটি বাড়ির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর ১নং রোডে আরো একটি বাড়ির কাজ চলছে। খিলক্ষেত মন্দিরের পেছনে একটি দোতলা বাড়িসহ জায়গা কিনেছেন। গোদাগাড়ী থানার পাশে ৩৭টি দোকানের একটি বিশাল মার্কেট গড়েছেন তিনি। যেখানে কয়েকটি ব্যাংকের বুথ বসানো হয়েছে। এছাড়া ৬০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন বিশাল আমবাগান। যে আম বিআইবিএমের মহাপরিচালকসহ কয়েকজনের বাসায় দফায় দফায় পৌঁছে দেন। রাজশাহী শহরের চার রাস্তা মোড়ের কাছে আরো একটি ভবনের মালিক শাহীনুজ্জামান। বিআইবিএমের সবচেয়ে দামি আইফোনের মালিকও তিনি।

নিয়োগ পরীক্ষা কমিটি আতঙ্কে থাকে:
সম্প্রতি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের একটি বড় নিয়োগ পরীক্ষার টিমে কাজ করেন এ কে এম শাহীনুজ্জামান। সেখানে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন ছিদ্দিক বলেন, তার (শাহীনুজ্জামান) অনেকগুলো কুকর্ম আমার নজরে এসেছে। তিনি মহাপরিচালকের কথা বলে প্রশ্নের সফট কপি চান। এ কারণে টিমের আরেক সহযোগী অধ্যাপক এম আর আলম ভাইসহ পুরো টিম প্রথম থেকেই সতর্ক ছিল। প্রশ্নপত্র প্রণয়নে বিশেষ কৌশল নেয়া হয়। মূলত পরীক্ষার্থীদের জন্য এমন প্রশ্ন তৈরি করা হয় যেন স্টাফ অফিসার শাহীনুজ্জামান চক্র কোনোভাবে ফাঁস করলেও তার উত্তর যেন তৈরি করতে না পারে। এরপরও বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। স্টাফ অফিসার হওয়ার কারণে পুরো টিমকে আতঙ্ক নিয়ে কাজ করতে হয়।

স্টেশনারি কেনাকাটায়ও দুর্নীতির অভিযোগ:
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক সম্মানিত অনুষদ সদস্যদের বাড়তি সম্মানীর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রীতিমতো চাপ দেন শাহীনুজ্জামান। বিভিন্ন সময় নিয়োগ পরীক্ষা টিমকে বেশি দামে স্টেশনারি কিনতে বাধ্য করেন। নিম্নমানের স্টেশনারি নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ থাকার পরও তা পাত্তা দেন না স্টাফ অফিসার। এক পরীক্ষার হলেই ১০ লাখ টাকার খরচ দেখান। ডিজির নির্দেশে গত ১২ বছর ধরে স্টেশনারি কেনাকাটার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেন স্টাফ অফিসার শাহীনুজ্জামান। এ ছাড়া তিনি আত্মীয়-স্বজনদের অনেককে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি দিয়েছেন। 

যা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক:
দুর্নীতির এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বিআইবিএম মহাপরিচালককে চিঠি দেয়। এ নির্দেশনার পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চললেও কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি বিআইবিএম।

চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের স্টাফ অফিসার এ কে এম শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক এক মাসের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করার জন্য আপনাদের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এ কে এম শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিআইবিএম কর্তৃক আয়োজিত নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে শাহীনুজ্জামানকে সম্পৃক্ত না করে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো। 

নির্দেশনা মানেনি বিআইবিএম:
স্টাফ অফিসার শাহীনুজ্জামানকে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও সেটি মানেনি বিআইবিএম। শাহীনুজ্জামান অতীতের মতো এখন পর্যন্ত মহাপরিচালকের স্টাফ অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষার কমিটিতে তাকে সংযুক্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি বিআইবিএমের একাধিক অনুষদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো. রিয়াদ ফারজান্দ বলেন, প্রতিবেদন না দিলে এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। প্রতিবেদন কবে দেবে, সেটিও বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে এবং তাকে (শাহীনুজ্জামান) অন্য জায়গায় বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই আলোকে তাকে স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট টিমে বদলি করা হয়েছে এবং এখনো তিনি এ শাখায় কর্মরত আছেন। তদন্ত চলমান থাকায় এখন আর বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসব অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্টাফ অফিসার শাহীনুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। কেউ চাইলে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে পারে। কমিটি এরই মধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট দেখার কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
ট্যাগ: অনিয়ম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!