হজ মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণাকারী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।
ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মোহাম্মদ আলী দিয়া ইন্টারন্যাশনাল হজ এজেন্সির নাম ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি রংপুর শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট (অ্যাকাউন্ট নং: ২০৫০৩৩৩০১০০১৫৫৯১৬) করেন। এ অ্যাকাউন্ট দিয়ে তিনি হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন করিয়ে টাকা নেন। পরে প্রাক-নিবন্ধনকৃত হজযাত্রীদের চট্টগ্রামের আল ইমাম হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী হজযাত্রীদের টাকা ইমাম হজ কাফেলার অ্যাকাউন্টে জমা করবেন। আর ঐ এজেন্সি হজযাত্রীদের সব কার্যক্রম শেষ করবে। কিন্তু মোহাম্মদ আলী এখনো আল ইমাম হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির পাওনা ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা দেয়নি। যে কারণে ঐ এজেন্সি মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, ভিসা ও বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে নিবন্ধনকৃত ৭৫ হজযাত্রী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
.png)
জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ৭৫ হজযাত্রীর মধ্যে ২৫ হজযাত্রীর মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়ার দায়িত্ব নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বাড়ি ভাড়াও করেননি। পাশাপাশি তিনি আতিকুর রহমান ও মোনতাসির ইসলাম নামের দুই হজযাত্রীর কাছে অন্য এজেন্সির নাম ভাঙিয়ে আলাদাভাবে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। টাকা নিলেও তিনি হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করেননি।
হজ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীর নিজের কোনো হজ এজেন্সি নেই। তবুও দিয়া ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির পরিচয় দিয়ে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সুপার রংপুর, জেলা প্রশাসক রংপুর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি এলাকায় বাবু নামে পরিচিত। এ নামেই তিনি প্রতারণা করেন। হজে লোক পাঠানোর পাশাপাশি চাকরি দেওয়ার নামেও তিনি মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন। প্রায়শই টাকার জন্য মানুষ তার বাড়িতে যান। প্রায় দেড় মাস ধরে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সবাই হজে যেতে পারবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত করুক। তাহলেই বোঝা যাবে আমি অপরাধ করেছি কিনা।
চট্টগ্রামের আল ইমাম হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির মালিক মো. মুনির উদ্দিন বলেন, মোহাম্মদ আলীর কোনো এজেন্সি নেই। তিনি ৭৫ হজযাত্রীর হজ কার্যক্রমের দায়িত্ব আমাদের দেন। আমরা তার কথা অনুযায়ী কাজ শুরু করি। কিছু কাজও করেছি। কিন্তু তার কাছে ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু তিনি মাত্র ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাই আমরা কাজ করতে পারছি না।
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোবাশ্বের হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের কোনো চিঠি পাইনি। তারপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। চিঠি পেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, নানা অভিযোগের মধ্যেই গত ৯ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। তিনটি এয়ারলাইন্সের ৮২টি ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭১৯ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।