গত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ (ষষ্ঠ) জনশুমারি ও গৃহগণনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১১ সালের শুমারি (পঞ্চম) থেকে বরিশাল বিভাগে পুরুষ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে। এবারের শুমারিতেও এই হার কম। এই তালিকায় নতুন করে ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের নাম যোগ হয়েছে। এই তিন বিভাগেই পুরুষ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক।
.png)
জনশুমারির তথ্য বলছে, বরিশাল বিভাগে নারী ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ১৬৩ জন ও পুরুষ ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে নারী ৬২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৭ জন ও পুরুষ ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৩ জন। এছাড়া রংপুর বিভাগে নারীর সংখ্যা ৮৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৫ জন এবং পুরুষ ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ৪১৫ জন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, এই তিন বিভাগে কর্মসংস্থান হওয়ার মতো শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকায় দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি। এ কারণে পুরুষের অভ্যন্তরীণ অভিবাসী হওয়ার প্রবণতা বেশি। ছেলেসন্তান জন্মের হার কম, পুরুষ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম হওয়ার এটিও একটি কারণ হতে পারে। নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার বেশি, এটাও কারণ হতে পারে।
বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের মানুষ নিজ এলাকায় বসবাস করে সবচেয়ে কম। সেখানকার প্রায় ১৯ ভাগ মানুষ ঢাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগের মানুষ নিজ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বসবাস করে। এখানকার মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ ঢাকায় অবস্থান করছে।
গত ২১ জুন নভেম্বর ষষ্ঠ জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। এতে দেখা যায়, দেশে এখন মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। এর মধ্যে নারী ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার (৫০.৪৬ শতাংশ)। পুরুষ ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার (৪৯.৫৪ শতাংশ)।