ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

এমটিএফই’র প্রতারণার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৪ আগস্ট ২০২৩
এমটিএফই’র প্রতারণার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: দুদক
ফাইল ফটো

উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুবাইভিত্তিক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম মডেলের প্রতিষ্ঠান মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই)। এ প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পা দিয়ে ১১ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন দেশের প্রায় ৮ লাখ মানুষ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অভিযোগ করে তাহলে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এমনিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। মানুষ প্রতারিত হয়ে থাকলে খতিয়ে দেখা হবে, ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ১৬ আগস্ট বন্ধ হয়ে যায় মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই)। প্রতারিত হওয়ার পর গ্রাহকরা তথাকথিত টিম লিডারদের দেখা পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। তবে ঠিক কত মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন তার কোনো হিসাব নেই। বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ যুবক। সারাদেশেই বিছানো ছিল এই প্রতারক চক্রের জাল।

Advertisement

ভুক্তভোগীরা জানান, এমটিএফই হচ্ছে দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম মডেলে ব্যবসা করত প্রতিষ্ঠানটি। এখানে বিনিয়োগকারীদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। বিনিয়োগকারী যার মাধ্যমে বিনিয়োগ করবেন তিনিও এর কমিশন পাবেন। কারো অধীনে ১০০ বিনিয়োগকারী থাকলে তিনি ‘সিইও’ হিসেবে গণ্য হবেন। মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে (যেমন বিটকয়েন) বিনিয়োগ করতে হয়। যদিও ক্রিপ্টো ট্রেডিং বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।

বিনিয়োগকারী বেশ কয়েকজনের দেওয়া তথ্যমতে, টিম লিডাররা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে শুরুতে গ্রাহকদের তিন হাজার টাকায় এমটিএফই প্ল্যাটফর্মে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে দিতো। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ‘রেফার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে টিম লিডারের হিসাব বা আইডি নম্বর। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীরা এই অ্যাপে ডলার জমা করতেন।

তারা জানান, এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে লাভ পাওয়া যাবে। এই ফাঁদে পড়েই অনেকে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সম্প্রতি বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলতে পারছিলেন না, তখন বলা হয় সফটওয়্যার আপডেটের কথা। হঠাৎ করেই বিনিয়োগকারীদের অ্যাপের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ডলারের বিপরীতে সমপরিমাণ দেনা দেখাতে থাকে। তারা নিজেদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছিলেন না। পরে অ্যাপটি উধাও হয়ে যায়।

এদিকে এমটিএফই’র কাছে প্রতারিত হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মামলা করেছেন প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে এমটিএফই অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় রাজশাহী থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতারণা করে আলোচিত এমটিএফই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় শেয়ার, ডলার, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার কানাডা ও দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করতো। 

মূলত প্লে-স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ নামিয়ে তাদের সদস্য হতে হয়। এ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা দুবাই প্রবাসী বাংলাদেশি মাসুদ আল ইসলাম। শুরুতে অন্তত ২৬ ডলার বা সমপরিমাণের টাকা বিনিয়োগ করতে হতো এ প্রতিষ্ঠানে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে এই টাকা জমা দেওয়া যেত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!