জানা গেল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ দেশের কোথায় কোথায় আঘাত হানতে পারে
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ এরই মধ্যে ‘অতি প্রবল’ রূপ নিয়েছে। রোববার দুপুর নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ নিয়ে বিশেষ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে গতিতে ঘূর্ণিঝড় মোখা এগোচ্ছে, তাতে রোববার দুপুর নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল ও মিয়ানমারের উত্তর-উপকূল দিয়ে এটি অতিক্রম করতে পারে। উপকূলে আঘাত হানার ৪-৬ ঘণ্টার মধ্যে মোখা শক্তি হারাবে।
প্রবল থেকে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া মোখা উপকূলে আঘাতের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ১৫০-১৭৫ কিলোমিটার থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, মোখার প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস শুরু হতে পারে। পরদিন রোববার উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
এর আগে, শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড় মোখা নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, এখন মোখার পর্যন্ত সুপার সাইক্লোন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সিডরের মতো আই ফরমেশন বা চোখাকৃতির তৈরির দিকে এগুচ্ছে। উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার গতি ঘণ্টায় আট থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। এমন গতি অব্যাহত থাকলে আগামী রোববার দুপুর নাগাদ উপকূলে আঘাত হানতে পারে মোখা।
তিনি বলেন,এখন পর্যন্ত ঝুঁকিতে আছে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ। এছাড়াও রয়েছে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও হাতিয়া। আজ থেকে সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। ১৩ তারিখ থেকে সারা দেশেই বেড়ে যাবে বৃষ্টিপাত।
সকাল পর্যন্ত উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোলেও একপর্যায়ে এটি উত্তর দিকে বাঁক নেয় এবং বিকেল নাগাদ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অর্থাৎ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলে আগানোর আশঙ্কা রয়েছে।