পদোন্নতিকে স্বচ্ছ করতে ডিসিদের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রতিবেদন
বিভিন্ন কর্মকর্তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে সরকার। এই পদোন্নতিকে আরো বেশি স্বচ্ছ ও অর্থবহ করতে ডিসিদের মাধ্যমে গোপনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন নেয়া হচ্ছে। এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) এই উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ডিসিদের কাছে এ সংক্রান্ত অতি গোপনীয় চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত কর্মকর্তাদের জেলাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য লিপিবদ্ধ করতে সঙ্গে একটি ছক সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
ছকে প্রথমে রয়েছে কর্মকর্তার নাম ও পরিচিতি নম্বর (যদি থাকে) এবং বর্তমান কর্মস্থলের নাম। এরপর লিখতে হবে স্থায়ী ঠিকানা। তৃতীয় ধাপে কর্মকর্তার রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং চতুর্থ ধাপে লিখতে হবে কর্মকর্তার পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শ। এ ছাড়া ছক আকারে এই প্রতিবেদনের সঙ্গে আরো চারটি তথ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবারের কোন সদস্য কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না; তার পরিবারের অন্য সদস্যদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কী; পরিবারের কোনো সদস্য সরকার কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে নিয়োজিত ছিলেন কিংবা আছেন কি না এবং সব শেষে, সরকারি চাকরি পাওয়ার পর কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত দৃশ্যমান কোনো তথ্য-প্রমাণ কিংবা জনশ্রুতি আছে কি না।
এভাবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গোপনীয় প্রতিবেদন নেয়ার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অনেকটা বিলম্বে হলেও এ দাবি পূরণ হওয়ায় সাধারণ কর্মকর্তারা খুশি। পদোন্নতিপ্রত্যাশী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে কর্মরত ইউএনও এবং এসিল্যান্ডদের মাধ্যমে তথ্য নিচ্ছেন ডিসিরা।