সাহেদের বিরুদ্ধে হটলাইনে ১২০ অভিযোগ, মেইলে ২০
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি র্যাবের পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার জন্য একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়। আর তাতেই ব্যাপক সাড়া মিলছে।
রোববার অবধি ফোন কলে ১২০টি ও মেইলে ২০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। আর এসব অভিযোগের বেশিরভাগই সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ।
এদিন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা সাহেদের বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহের জন্য গত ১৭ জুলাই র্যাবের একটি সেবা লাইন (হেল্পলাইন- ০১৭৭৭৭২০২১১) চালু করি। সেবা লাইনের উদ্দেশ্য ছিল যারা রিজেন্ট হাসপাতাল বা মো. সাহেদের হাতে প্রতারিত হয়েছেন, তাদের আইনি পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেয়া। এতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। এছাড়া একটি অফিসিয়াল ই-মেইলে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আহ্বান জানাই।
আশিক বিল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলোর মধ্যে চাকরি পাইয়ে দেয়া ও বিভিন্ন দফতরে বদলির সুপারিশের আশ্বাস দিয়ে বিশাল অংকের টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন জায়গায় বালু ভরাট, রড-সিমেন্ট সাপ্লাইয়ের কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, রিজেন্ট হাসপাতালে সেবার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়, রিকশা-ভ্যানের ভুয়া লাইসেন্স দেয়ার তথ্য মিলেছে সাহেদের বিরুদ্ধে। এছাড়া রিজেন্টের এমডি মাসুদ পারভেজ ও সাহেদের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে ফোন দিয়ে ঋণ নেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ মিলেছে।
সাহেদের প্রতারণার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই পরিচালক বলেন, সাহেদ সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ এসেছে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে বদলি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ করতেন সাহেদ। বদলির জন্য অনেকেই তাকে টাকা দিয়েছিল।
অভিযোগদাতাদের মধ্যে সাহেদের প্রতিষ্ঠানের কেউ আছেন কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আশিক বিল্লাহ বলেন, র্যাবের কাছে সাহেদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ফোন দিয়েছেন। সাহেদ তাদের বেতন দিতেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তিনি বলেন, সাহেদ ও মাসুদের বিষয়ে বিদেশ থেকেও আমাদের কাছে ফোন কল আসে। বিদেশের অনেকেই এই দুজনের কাছে প্রতারিত হয়েছেন বলে ফোন করেছেন। যারা বিদেশ থেকে ফোন করেছেন তাদের অভিযোগ অর্থ সংক্রান্ত প্রতারণার।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আরো বলেন, যেসব ফোন কল ও ই-মেইল পেয়েছি সবগুলোর মূল অংশ ছিল আর্থিক লেনদেন। আমাদের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, সাহেদ আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মতো প্রতারণা করেছেন। আগামী দুই-তিন দিন এই হটলাইনে অভিযোগ নেয়া হবে।