ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও নিয়ন্ত্রণহীন আলুর দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:২১, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও নিয়ন্ত্রণহীন আলুর দাম
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমি বাহারি সব সবজিতে পরিপূর্ণ বাজারগুলো। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কমেছে সবজির দাম। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। তবে আলুর বাজার এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। পুরাতন আলুর দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকায় কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষদের।

বুধবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মতিঝিল, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজারসহ অন্য বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক।বাজারে বর্তমানে চার ধরণের শিম। ৬০ থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে প্রতি কেজি শিমের জন্য। বারোমাসি সবজির মধ্যে করল্লা ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ও ঢেঁড়স ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ১০০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, লতি ৫০ টাকা,পাকা টমেটো ১২০ টাকা কেজি, পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৭০ কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চাল কুমড়ার পিস ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement

শীতকালীন সবজির মধ্যে দাম কমে লাউ ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। শতকের ঘর থেকে নেমে শালগম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা টমেটো ৬০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা কেজি। 
ফুলকপি ও বাধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। যদিও গত দুই সপ্তাহের তুলনায় আকারে বড় এদিনের কপিগুলো। 

বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজির সরবরাহ আরো বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে সবজির দাম আরো কমার সম্ভবনা দেখছেন তারা। 

বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম যেমন কমেছে, একই সঙ্গে শীতকালীন সবজির তালিকায় উঠে এসেছে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ। কেজি ৬০ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। 

পুরাতন আলু আর বাজারে আসা নতুন আলুর দাম প্রায়ই একই হয়ে যাচ্ছে। পুরাতন আলুর দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়ে আজ ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আর নতুন আলু ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ডজন প্রতি সাদা ফার্মের ডিম ১৩৫ টাকা, লাল ফার্মের ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হাঁসের ডিম ডজন প্রতি ২২০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ডজন প্রতি ২৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫২০ থেকে ৫৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

গরুর মাংসের কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, ছাগলের মাংসের কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৮১৮ টাকা, দেশি মসুর ডালের কেজি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি মোটা চাল ৫৭ টাকা, মিনিকেট ৭৩ টাকা, আটাশ চাল ৬১ টাকা, কাটারি নাজির ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাল আমনধানের চাল ৯০ টাকা, সুগন্ধী চিনিগুড়া পোলাও’র চাল ১৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাষের শিং মাছের কেজি (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, রুইয়ের দাম কেজিতে বেড়ে (আকারভেদে) ছয় কেজি ওজনের রুই মাছ ৪০০ টাকা, এক কেজি ওজনের রুই মাছ ২৮০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, বোয়াল ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, মলা ৬০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা, পাঁচমিশালি ২২০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকা, বাইম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, দেশি কই ১ হাজার ২০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ টাকা এবং কাইক্ক্যা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ভারতীয় জিরার কেজি প্রায় ৭৮০ টাকা, শাহী জিরার কেজি ১৬৬০ টাকা, মিষ্টি জিরার কেজি ২৪০ টাকা, পাঁচফোড়নের কেজি ২০০ টাকা, মেথির কেজি ১৫০ টাকা, চিনাবাদামের কেজি ১৬০ টাকা, কাজু বাদামের কেজি এক হাজার ৬০০ টাকা, পেস্তা বাদামের কেজি দুই হাজার ৭৫০ টাকা, ত্রিফলার কেজি ১৫০ টাকা, জয়ফলের কেজি ৮০০ টাকা, তেজপাতার কেজি ১৮০ টাকা, সাদা গোলমরিচের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, গোলমরিচের কেজি এক হাজার ২০০ টাকা, ধনিয়ার কেজি ২৫০ টাকা, সরিষার কেজি ১০০ টাকা, কিসমিসের কেজি ৫২০ থেকে ৫৪০ টাকা, এলাচের কেজি তিন হাজার ৮০০ টাকা, কালো এলাচের কেজি ৩ হাজার টাকা, লবঙ্গের কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা, জয়ত্রির কেজি দুই হাজার ৯০০ টাকা, পোস্তদানার কেজি এক হাজার ৮০০ টাকা, আলুবোখারার কেজি ৫৫০ টাকা, দারুচিনির কেজি ৫৫০ টাকা, খোলা হলুদের গুঁড়ার কেজি ৩৭০ টাকা, খোলা মরিচের গুঁড়ার কেজি ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে মসলার দামে রয়েছে ভিন্নতা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!