ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

মরিচের সঙ্গে চালের দামেও অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:০৭, ৩ আগস্ট ২০২৪
মরিচের সঙ্গে চালের দামেও অস্বস্তি
ফাইল ফটো

প্রতিদিনই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। এরমধ্যে কাঁচা মরিচের দাম দুইদিন পরে আবারও ৩০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে চালের বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি। আর দেশি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা এবং পেঁয়াজ ১১০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার উপরে। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দামে কোনো কমবেশি দেখা যায়নি। এছাড়াও মাছ, মাংস, ডিম, রসুন, আদা, আলু, ভোজ্যতেল, চিনি, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম অনেক দিন ধরেই চড়া। প্রতি কেজি আলুর কেজি ৬০-৬৫ টাকা দরে।

Advertisement

সবজির বাজারেও মিলছে না স্বস্তি। বেগুন, কাঁকরোল, করলার দাম সবচেয়ে বেশি। ঢেঁড়শ, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, পটল, কুমড়া ও পেঁপের দাম ৭০ টাকার নিচে থাকলেও অন্যান্য সবজির দাম ১০০ টাকার উপরে। দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগিরও। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে ১৭০-১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। এখন প্রতিকেজি সোনালী মুরগির দাম ২৭০-৩০০ টাকা, বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৫০-১৬০ টাকা এবং সাদা ডিম প্রতি ডজন ১৪০-১৫০ টাকা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ার কারণে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরাও ভালো মুনাফার আশায় পেঁয়াজ হাতছাড়া না করে ধরে রাখার কৌশল নিয়েছেন। আবার ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণে আমদানি হচ্ছে কম। এ অবস্থায় মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ ও বাজারে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি করা না গেলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে পেঁয়াজের দাম।

মরিচচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর মরিচ আবাদের শুরুর দিকে অর্থাৎ এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রচণ্ড খরা ও গরমে মরিচ গাছগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফলন কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে ভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁচা পণ্যের সরবরাহ কমেছে। এছাড়া ভারত থেকে যে কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে, তার দামও বেশি। এসব কারণে বাজারে মরিচের দাম ক্রমে বাড়ছে।

অপরদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৮ টাকা, বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ চাল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি করছেন। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় এবং মোটা হাইব্রিড চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

ক্রেতারা জানান, আগে ৭২ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল কিনেছি। আজ একই চালের জন্য তাকে কেজিপ্রতি ৭৫ টাকার উপররে বিক্রি হচ্ছে।

এক বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহ আগে তিনি মিনিকেট চাল ৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও আজ ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে বিআর-২৮ চালের দাম এক সপ্তাহ আগে ৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা কেজি হয়েছে। মিল মালিক-পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণে চালের দাম বেড়েছে।

মিরপুরের মকবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামাল সরদার বলেন, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম ৫০ কেজিতে ২০০ টাকা বেড়েছে, আর বিআর-২৮ চালের দাম ৫০ কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: বাজারদর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!