ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

শুক্রবারের বাজার দর (৩ মে ২০২৪)

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১০, ৩ মে ২০২৪
শুক্রবারের বাজার দর (৩ মে ২০২৪)
ফাইল ফটো

তীব্র গরমে সবজির বাজারেও দামে অস্বস্তি দেখা গেছে। তবে কমেছে ব্রয়লার মুরগি আর ডিমের দাম।

রাজধানীর কচুক্ষেত বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপের কেজি ৮০ টাকা। দাম শুনে অনেকটা হতভম্ব বনে যান অলিউজ্জামান নামের এক ক্রেতা। দুবার জিজ্ঞেস করে একই দাম শোনার পর বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলেন কারণ। বিক্রেতার জবাব, মোকামেই বেশি, কেনা পড়েছে ৭২ টাকা।

এরপর ক্রেতা অলিউজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পেঁপের দাম সারাবছর ৪০ টাকার মধ্যে থাকে। হুট করে গত সপ্তাহে ৫০ টাকায় কিনলাম। এখন ৮০ টাকা। একলাফে ৩০ টাকা বেড়ে গেল? দেশে কি পেঁপের আকাল পড়েছে?

Advertisement

তার সঙ্গে কথা শেষে আবার ঐ বিক্রেতা খালেক হোসেনের কাছে প্রতিবেদক পরিচয়ে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভবত গরমের কারণে পেঁপের চাহিদা বেড়েছে আর অন্যান্য সবজির দামও বেশি। এর প্রভাব আছে। পটল, ঢেঁড়স ছাড়া ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।

তিনি আরো বলেন, গত রাতে বৃষ্টির কারণে কারওয়ান বাজারে সবজি সরবরাহ কিছুটা কম ছিল। তার আগে প্রচণ্ড গরমে সবজি নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদের পর থেকেই সবজির বাজার চড়া।

বাজার ঘুরেও দেখা গেছে তেমনই। ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি সজনে ডাটা ১৪০-১৮০ টাকা, বরবটি, করলা, কাকরোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটল আর ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে, বাজারে নতুন করে পেঁয়াজের দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে, যা ৬০-৬৫ টাকা ছিল।

অন্যদিকে, বাজারে আদা, রসুনের দামও বাড়তি। প্রতি কেজি আমদানি করা আদা, রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে। এছাড়া চাল, ডাল, আটা, ময়দার মতো পণ্যের সঙ্গে মাছ ও মাংসের দামও উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল।

তবে বাজারে গত কয়েকদিনে ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমেছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা দরে। যা আগের চেয়ে ২০ টাকা কম। এছাড়া প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে, যা ১৩০ টাকা ছিল।

এদিকে, ডিম ও মুরগির দাম কমা প্রসঙ্গে প্রন্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সভাপতি সুমন হালাদার বলেন, প্রচণ্ড গরমে ডিম পাড়া বা পরিণত বয়সের মুরগি হিটস্ট্রোকের শিকার হচ্ছে বেশি। যে কারণে সবাই মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছে। যে মুরগি ৪০ দিন পালন করার কথা সেটা ৩০ দিনেই বিক্রি করে দিচ্ছে। অর্থাৎ অপরিপক্ব অবস্থাতেই মুরগি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাজারে মুরগির দাম অনেক কমে এসেছে।

তিনি বলেন, গরমের কারণে ডিমও সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না, যে কারণে বাজারে ডিমের সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে।

গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৫০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে এক ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছ ১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজি চাষের শিং (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ১ হাজার ২০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বেলে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
ট্যাগ: বাজারদর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!