ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

আজ‌কের বাজারদর (২৮ মার্চ ২০২৪)

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৭, ২৮ মার্চ ২০২৪
আজ‌কের বাজারদর (২৮ মার্চ ২০২৪)
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঊর্ধ্বমুখী নিত‌্যপ‌ণ্যের বাজা‌রে পেঁয়াজ, দারুচিনি, ধনিয়া, তেজপাতা, আদা ও ডিমের মতো স্ব‌স্তির বাজার হ‌তে পারতো চাল, মুগডাল ও রসুনের দাম। কিন্তু বি‌ধি বাম। গত এক সপ্তাহ ধ‌রে খুচরা বাজা‌রে এই পণ‌্যগু‌লোর দাম চড়া অবস্থায় র‌য়ে‌ছে। ফ‌লে বাড়‌তি টাকা খরচ কর‌তে হ‌চ্ছে ভোক্তা‌কে।

বৃহস্প‌তিবার মোহাম্মদপু‌র কৃ‌ষি মা‌র্কেট ও টাউন হল বাজারে দেখা যায়, সয়াবিন তেল গত এক সপ্তা‌হের তুলনায় ক‌মে পাওয়া যা‌চ্ছে। পেঁয়াজের সরবরাহ বে‌শি থাকায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের থেকেও কমে পাওয়া যাচ্ছে। ত‌বে মুগডাল কে‌জি প্রতি ১৮০ টাকায় বি‌ক্রি হ‌চ্ছে। গত সপ্তা‌হে বি‌ক্রি হ‌য়ে‌ছে ১৫০ টাকায়। রসুন বি‌ক্রি হ‌চ্ছে ১৪০ টাকায়। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকা‌রের নির্ধারিত দা‌মের চে‌য়ে ৬-৭ টাকা ক‌মে অর্থাৎ ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ত‌বে মান‌ভে‌দে দা‌মে হেরফর র‌য়ে‌ছে।

Advertisement

গরুর মাংস অধিকাংশ বাজারে ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে।

ব্রয়লার মুরগির দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৭৫ টাকা কেজি, বাজারে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দে‌শি মুর‌গি বিক্রি হ‌চ্ছে ৫০০-৫৫০টাকা কে‌জি।

পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে। রুই মাছ বি‌ক্রি হ‌চ্ছে ২৮০-৩৫০ টাকায়, ইলিশ মাছ বি‌ক্রি হ‌চ্ছে ৭০০-১৩০০ টাকায়।

চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধা‌নে কেজি প্রতি ১-৩ টাকা বেড়ে চিকন চাল না‌জিরশাইল ৭৬ টাকা, মাঝারি জাতের পাইজাম চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

দাম বেশি হওয়ার কারণে খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব রয়েছে। এখা‌নে আমা‌দের কিছু করার থা‌কে না। আমরা যেমন কি‌নি তেমন বে‌চি।

আজকের বাজা‌রে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৮ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৪০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্য যেসব পণ্যের দামও বেশি
কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা কেজি। অথচ সরকার কাঁচামরিচের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে কেজি ৬০ টাকা।

আমদানিকৃত আঁদা সব বাজারেই ১৯০-২২০ টাকা কেজি বি‌ক্রি হ‌চ্ছে। অথচ সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৮০ টাকা।

দেশি রসুন ১৪০ টাকা কে‌জি‌তে বি‌ক্রি হ‌চ্ছে। অথচ সরকারের তালিকা অনুযায়ী দাম ১২০ টাকায় বি‌ক্রি হওয়ার কথা।

আলুর খুচরা মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ২৮ টাকা ৫৫ পয়সা। অথচ বাজারে ৪০ টাকা দ‌রে বি‌ক্রি হ‌চ্ছে।

বেসনসহ সব ধরনের ডাল ও ছোলার দামও সরকার নির্ধারিত দামের থেকে বাজারে বেশি। মুগডাল ১৮০ টাকা, মসুর ডাল মিহি দানা ১৬০-১৭০ টাকা কেজি। মোটা দানার মসুর ডাল ১৩০ টাকা। ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। মাসকলাই ডাল প্রতিকেজি ১৬৭ টাকা। বাজারভেদে দামে ১০-২০ টাকা পার্থক্য পাওয়া যায় এসব পণ্যে।

পাইকারি বাজারে ভারতীয় এলাচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। এক মাসে আগেও এ এলাচ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসেবে এলাচের দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। ভারতীয় জিরা এক মাস আগে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৬৪০ টাকা এবং আফগানিস্তানের জিরা গত মাসে ৭০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৬০ টাকায়। এদিকে সিরিয়ার জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। ভারতীয় জিরা প্রায় ১৫০ টাকা কমলেও অন্যান্য দেশের জিরার দামও বেশ কমেছে।

লবঙ্গ এক মাস আগে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি দেড় হাজার টাকা। সে হিসেবে দাম কমেছে কেজিতে ১০০ টাকা। দারুচিনি কেজিপ্রতি ৩৬০-৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এক মাসে আগে প্রায় একই দাম ছিল মসলাটির। দেশি জাতের শুকনা মরিচ কেজিপ্রতি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৭০ টাকায়। নোয়াখালীর শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া হলুদ ২৫০-২৮০ টাকা, ধনিয়া মানভেদে কেজিপ্রতি ২৬০-৩৫০, জয়ফল ১ হাজার ৬০০, জয়ত্রী ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ ও তেজপাতা ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সব ধরনের মসলার দাম সহনীয়। কারণ ক্রেতার চাহিদার তুলনায় মসলার প‌রিমাণ বে‌শি। তাছাড়া পেঁয়াজের বাজার অর্ধেকে নামায় অন্যান্য মসলার দামে সেভাবে বাড়েনি।

টমেটো পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে আকারে বড় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। সরকার টমেটোর মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪০ টাকা ২০ পয়সা।

সরকার এক কেজি মিষ্টি কুমড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ২৩ টাকা ৩৮ পয়সা। অথচ  প্রতি ফালি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা করে।

বাজারে অন্তত ৫ ধরনের বেগুন পাওয় যা‌চ্ছে। এর মধ্যে একেবারে ছোট আকারের ও সবুজ রঙয়ের বেগুনগুলো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনি রংয়ের লম্বা চিকন বেগুনগুলো ৫০ টাকা কেজি, বেগুনি রংয়ের মোটা বেগুন ৬০ টাকা কেজি। তাল বেগুন বলে পরিচিত বড় আকৃতির বেগুনের কেজি ৮০ টাকা।

শসা ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, সজনে ২০০ টাকা, কচুরমুখী ১৪০, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, ধনেপাতা ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০-৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে ফার্মের মুরগির বাদামি ডিম বিক্রি হয় প্রতি ডজন ১২০ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগে যা ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।

মূল‌্যবৃদ্ধি নি‌য়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্য নির্ধারণ করে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। কোনো দেশেই এমন দাম নির্ধারণ (প্রাইসিং) করা হয় না। বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে হলে আমদানি অবারিত করতে হবে। এ‌তে বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম নির্ধারণ করা হবে। ফলে দাম স্বাভাবিক রাখতে হলে বাজারমুখী নীতি গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, টিসিবির মাধ্যমেও বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। কারণ তারাও বড় বড় গ্রুপের কাছ থেকে পণ্য কিনে বাজারে ছাড়ে। তারা নিজেরা আমদানি করলে দাম কমাতে পারতো। তারা কেবল ভর্তুকি দিয়ে দাম কমায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!