১০ উপকারিতা পেতে নিয়মিত করুন যোগ ব্যায়াম ‘ভুজঙ্গাসন’
বর্তমানে দেশে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তাইতো করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশে লকডাউন দিয়েছে সরকার। এসময় সংক্রমণ রোধে আমাদের অনেক বেশি সচেতন থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
তাইতো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম খুবই জরুরি। করোনা সংক্রমণ রোধেও যা সবচেয়ে ফলপ্রসূ। এছাড়া নতুন স্বাভাবিক অবস্থায়ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা সুস্থতার জন্য আবশ্যক। অন্যথায় আরো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
এসময় শরীর আর মনের সমন্বয়ে বেড়ে ওঠা নিজেকে ঠিক রাখতে আপনি আশ্রয় নিতে পারেন যোগব্যায়ামের। যাকে ইয়োগা চর্চা হিসেবেও বলা হয়ে থাকে। শুরুতে একটু কষ্টকর এবং পরিশ্রমী মনে হলেও কিছু দিনের নিয়মিত অনুশীলনে এ ব্যায়াম বেশ মানিয়ে যাবে। ৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে নিয়মিত যোগ ব্যায়াম বা ইয়োগা চর্চা করা শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যোগ ব্যায়াম বা ইয়োগা চর্চা মন ও শরীরের সঙ্গে সংযোগ এবং উৎকর্ষ বৃদ্ধি করে। যোগ ব্যায়ামের সুবিধা হলো, এটি মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে সাহায্য করে।
তাই এই সময় নিয়মিত ইয়োগাগুলো চর্চা করতে পারেন। এই যোগব্যায়াম বা ইয়োগাগুলো চর্চার কিছু পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে ‘ভুজঙ্গাসন’ একটি। আজ আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করবো।
ভুজঙ্গাসন
প্রথমে উপুড় হয়ে দুই পা জোড় করে সোজা রেখে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। মাথাটা বামে অথবা ডানে যেদিকে ইচ্ছে কাত করে রাখুন। হাত দুটো শরীরের দুপাশে ও হাতের পাতা মাটিতে লেগে থাকবে। এবার হাত দুটো টেনে নিয়ে এসে দুবাহু বরাবর উপুড় করে রাখুন।
হাতের ওপর ভর করে মাথা ওপরে তুলুন। বুক মাটি থেকে ওপরে উঠবে। কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পা জোড় অবস্থায় সোজা থাকবে। নাভি মেঝেতে লেগে থাকবে। দম থাকবে স্বাভাবিক। এভাবে পূর্ণ ভঙ্গিমায় এসে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড অবস্থান করুন। তিন থেকে পাঁচ বার করতে পারেন। প্রয়োজনে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে করতে পারেন।
এবার হাতের ওপর ভর করে বুক-পেট- মাথা পেছন দিকে এলিয়ে দিয়ে পা দুটো হাঁটু ভেঙে মাথার তালুর সঙ্গে লাগিয়ে দিন। নাভি ওপরে থাকবে। এ অবস্থানে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড থাকতে পারেন। এভাবে তিন থেকে পাঁচ বার করতে পারেন।
উপকারিতা
>> মেরুদণ্ডের হাড় নমনীয় থাকে।
>> অর্ধ ভুজঙ্গাসনেও পূর্ণ ভুজঙ্গাসনের মতো ফল পাওয়া যায়।
>> এ আসন নিয়মিত করলে হজমশক্তি বাড়ে। যকৃৎ ও প্লীহা সুস্থ থাকে।
>> ব্যাকপেইনের জন্যে এ আসনটি উপকারী।
>> এ আসনটি নিয়মিত করলে ব্যাকপেইন, স্পন্ডিলাইটিস, স্লিপড ডিস্কজাতীয় রোগ হতে পারে না।
>> সব ধরনের স্ত্রীরোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিদিন এ আসনটি অভ্যাস করা উচিত।
>> যেসব ছেলেমেয়ের বয়স অনুযায়ী বুকের গড়ন সরু বা অপরিণত তাদের এ আসনটি করা উচিত। নিয়মিত অভ্যাসে বুক সুগঠিত হয়।
>> আসনটিতে ঘাড়, গলা, মুখ, বুক, পিঠ, কোমর ও মেরুদণ্ডের ওপরে চাপ পড়ায় ঐ অঞ্চলের স্নায়ুতন্ত্র ও পেশি সতেজ ও সক্রিয় থাকে। পিঠের মাংসপেশিকে মজবুত ও বেশি কর্মক্ষম করে।
>> টনসিলাইটিস থেকে মুক্তির জন্যে এবং যারা ঘন ঘন ঠাণ্ডায় ভোগেন তাদের জন্যে উপকারী।
>> এ আসনটি হাই ব্লাডপ্রেশার রোগীদের জন্যে খুবই উপকারী। মানসিক উদ্বেগ ও উত্তেজনার ফলে আমাদের শরীরের রক্তে এড্রিনালিন বেড়ে গিয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। এ আসন নিয়মিত চর্চা এড্রিনাল গ্রন্থিকে ত্রুটিমুক্ত ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা
যেকোনো ইয়োগা চর্চার আগে অভিজ্ঞ ডাক্তার বা ইয়োগা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।