ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, তদন্তে ডিবি

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, তদন্তে ডিবি
সংগৃহীত ছবি

দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তারা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (৪৭) ও লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩)। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত আসামিরা তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও তাঁদের অবস্থান নির্ণয়, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধার, আসামিদের পরিচালিত অন্যান্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে তাঁদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আসামিপক্ষের আবেদন

রিমান্ড শুনানিতে দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার পক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি বা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না কিংবা জেনে-শুনে দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো কাজ করেছেন কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কাজী গুলশান আরার পক্ষে আইনজীবী মশিউর রহমানও রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কারণে অন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর মক্কেলের যোগাযোগ থাকতে পারে, যা নিজে থেকে অপরাধ নয়। একইভাবে ফেসবুক পেজ খোলা বা কনটেন্ট তৈরি করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না বলে যুক্তি দেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, আসামিরা সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য তাদের কাছে পাচারের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর যুক্তি, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে তাঁদের সর্বোচ্চ মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

নজরদারিতে ছিলেন দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা: ডিবি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ডিবির নজরদারিতে ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রেখে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সাইবার অপরাধের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!