[ আইন-আদালত ]

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৮ অক্টোবর ২০২৬
শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. হোসেন নামে এক ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে চার্জগঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিন মামলার শুনানিতে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় এজলাসে নেওয়ার বিষয়ে বিচারকের কাছে অভিযোগ করেন পলক। তিনি বলেন, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও তাকে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

পলক আদালতকে বলেন, “মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

জবাবে বিচারক বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তখন পলক বলেন, “এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অথরিটি। আপনার না, হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।”

এ সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) উদ্দেশে পলক বলেন, “পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।”

পরে আদালত থেকে নামানোর সময়ও তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেওয়া হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের পলক বলেন, “লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।”

এ সময় পলকের পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি, তরিকুল ইসলামসহ অন্য আইনজীবীরাও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। অন্যরা পলাতক।

যেভাবে হত্যা করা হয় হোসেনকে

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

এ ছাড়া মামলায় আসামি করা হয়েছে আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।

আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাজাহান খান কারাগারে আটক রয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!