সোমবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন নিম্ন আদালতের বিচারক মামলা দ্রুত শেষ না করার ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন প্রসিকিউশন যথাসময়ে সাক্ষী হাজির না করতে পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
.png)
এর আগে, এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আসামি আশীষ রায় চৌধুরী। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।
সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় আশীষ রায় চৌধুরীকে গত বছরের ৫ এপ্রিল রাতে গ্রেফতার করে র্যাব।
২০০১ সালে এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে ২০০৩ সালে এক আসামি হাইকোর্টে রিট করলে বিচারকাজ স্থগিত করে রুল জারি করা হয়। ২০১৫ সালে ঐ রুল খারিজ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে রায় দেন উচ্চ আদালত। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি সোহেল চৌধুরীর মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হারুন ভূঁইয়া রাসেল। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে হাইকোর্ট নথি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। ১০ মার্চ আবারও শুরু হয় বিচারকাজ। ২০ মার্চ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আশীষ রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে বনানীর ক্লাব ট্রামসের নিচে গুলি করে হত্যা করা হয় নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে। ঘটনার পর তার বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। এরপর ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। শুরুতে ক্লাবের ১১ সদস্য-কর্মচারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় আদনান সিদ্দিকী নামে একজনকে।
১৯৯৯ সালের ৩ জানুয়ারি গুলশান থেকে ক্লাব ট্রামসের মালিক বান্টি ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এর তিনদিন পর গুলশান লেডিস পার্কের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় আলোচিত শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আদনান সিদ্দিকী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের আগে এক শিল্পপতির ফোন পেয়ে তিনি ঢাকা ক্লাব থেকে ঘটনাস্থলে যান।
তদন্তের পর ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী। এতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই ছাড়াও তারিক সাঈদ মামুন, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন, ফারুক আব্বাসী, আশীষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে অভিযুক্ত করা হয়।
২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে বিচারের জন্য পাঠানো হয় ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
এ মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন। তবে রুল নিষ্পত্তি করে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে রুলটি খারিজ করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন আদালত।