সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
এর আগে, ১৫ মার্চ মাসুদ পারভেজের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
.png)
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে রিজেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে সিআইডি। প্রায় দেড় বছর তদন্ত শেষে সেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে সাহেদ ও মাসুদসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।
ঐ সময় করোনার প্রকোপ দেখা দিলে মাসুদ পারভেজের মাধ্যমে রিজেন্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন সাহেদ। ঐ প্রতিষ্ঠানের নামে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি হিসাবও খোলা হয়। ঐ হিসাবটি পরিচালনা করেন মাসুদ পারভেজ ও তার বাবা সিরাজুল করিম। ২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঐ হিসাবটিতে মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ২২৭ টাকা জমা হয়।
সিআইডির তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, সাহেদ জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কোভিড সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে জনপ্রতি যে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নিতেন, সেসব অর্থ এই হিসাবে জমা হতো। জালিয়াতি ও প্রতারণার অর্থ নিজের ও সহযোগীদের নামে ছাড়াও রিজেন্ট হাসপাতাল এবং অস্তিত্বহীন ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৪৩টি হিসাবে রাখতেন তিনি। এসব হিসাবে মোট ৯১ কোটি ৭০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৭ টাকা জমা হয়। এর মধ্যে ৯০ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৫২৪ টাকা উত্তোলন করেন। বর্তমানে এসব হিসাবে ২ কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার ১১ টাকা স্থিতাবস্থায় রয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাহেদ ও মাসুদসহ সহযোগীরা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত ১১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন, স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন। প্রতারণা ও জালিয়াতিতে ব্যবহারের জন্য সাহেদের মালিকানাধীন তিনটি প্রতিষ্ঠানকেও অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়।