‘নাহিদকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে সিয়াম’
আসামি মাহমুদুল হাসান সিয়াম ভুক্তভোগী নাহিদকে লক্ষ্য করে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
নাহিদ হত্যা মামলায় আসামি সিয়ামকে সাতদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তারিকুল আলম জুয়েল আদালতে এ আবেদন করেন।
এর আগে, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের সময় নাহিদ হাসান নামে এক কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারি ম্যান মারা যান। পরবর্তীতে নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে, মামলাটির ঘটনাস্থলসহ আশপাশের ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র পর্যালোচনা এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামি সিয়াম এ মামলার ভুক্তভোগী নাহিদকে লক্ষ্য করে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করতে দেখা যায়। আসামি সিয়ামকে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
আরো বলা হয়েছে, গ্রেফতার আসামি সিয়াম ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মর্মে প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আসামি সিয়ামকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে এসে তার সঙ্গীয় অপরাপর অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহসহ তাদেরকে গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের লক্ষ্যে তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা একান্ত প্রয়োজন। এটি একটা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। স্বল্প সময়ে গ্রেফতারকৃত আসামি আসামির নাম ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা সমূহ বিদ্যমান। এছাড়াও মামলার সাক্ষীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।
তিন দিনের রিমান্ডে সিয়াম:
শুক্রবার আসামি সিয়ামকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর নাহিদ হত্যা মামলায় আসামি সিয়ামের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তারিকুল আলম জুয়েল। এসময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক ৫ শিক্ষার্থী:
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের সময় নিহত নাহিদ হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ড শেষে ঢাকা কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১ মে ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেদী হাসানের আদালত কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। এ মামলায় তাদের গ্রেফতারের পর গত ২৮ এপ্রিল আদালত পাঁচ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কারাগারে যাওয়া পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল কাইয়ূম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পলাশ ও ইরফান, বাংলা বিভাগের ফয়সাল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের জুনায়েদ।
উল্লেখ্য, তিন ছেলের মধ্যে বড় ছিলেন নিহত নাহিদ। অভাবের সংসারে ১০ বছর বয়সেই আয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তখন তিনি একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। সর্বশেষ কাজ শুরু করেন একটি কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে।