মডেল মৌ ফের দুদিনের রিমান্ডে
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মডেল মরিয়ম আক্তার মৌয়ের ফের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিন চারদিনের রিমান্ড শেষে আসামি মৌকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মোহাম্মদ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। এসময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ১ আগস্ট রাতে মিরপুর রোড সংলগ্ন ২২/৯ বাবর রোডে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তার বাসার ভেতরের বেডরুমের একটি ড্রয়ার থেকে পাঁচ প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এছাড়া ওই বেডরুমের ভেতরে আরেকটি ড্রেসিং রুম থেকে অন্তত এক ডজন বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর ২ আগস্ট তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মোহাম্মদ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমামের আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৬ আগস্ট রিমান্ড শেষে আসামি মৌকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মোহাম্মদ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে আসামি মৌ তার নিজের বাসায় নাচ ও গানের আসর বসায় এবং লোকজন ডেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের কাছে মদ, ইয়াবা, সিসাসহ অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রয় করে। আসামির সঙ্গে আরো দুই থেকে তিনজন জড়িত রয়েছে। আসামি মৌ একজন নারী মাদক ব্যবসায়ী। সে তার তার ফ্ল্যাটে সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের নাইট পার্টির কথা বলে ডেকে এনে মাদক বিক্রয় করে যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করছে।
এদিকে, মডেল মৌ তার বাসাটিকে ‘মদের বার’ হিসাবেই ব্যবহার করতেন বলে পুলিশ জানায়। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মৌ।
তিনি বলেন, এটা বার বলতে, আমরা পুরো বাসা সাজাইছি। শখ করে, নিজেদের জন্য। আপনারা যে আজকে আসবেন, সেটা তো আমরা জানি না। কিন্তু আপনারা এসে কোনো লোক পাইছেন? এগুলো (মদের বোতল) আমরা নিজেদের জন্য সাজাইছি। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দুই মডেল পিয়াসা ও মৌ রাতের রানী। তারা দিনের বেলায় ঘুমান এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় আসলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরে তারা সেসব ভিডিও ও ছবি ভুক্তভোগীদের পরিবারকে পাঠাবে বলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।