অস্ত্র মামলায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৬ মার্চ
অস্ত্র আইনে করা মামলায় মো. মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৬ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে গ্রহণ করে এদিন ধার্য করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুই মামলায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল মালেক এ চার্জশিট দাখিল করেন।
এদিকে গত ৩ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মইনুল ইসলামের আদালত অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা দুই মামলায় গোল্ডেন মনিরের তিনদিন করে মোট ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে দুই মামলার রিমান্ড একই সঙ্গে চলবে বলে জানান বিচারক। এছাড়া ঢাকা মহানগর মো. মামুনুর রশিদের আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ফের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২২ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকের আদালত অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় মনিরের সাতদিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এই রিমান্ড একই সঙ্গে কার্যকর করার নির্দেশ দেন আদালত। একই দিন ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুদ উর রহমানের আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গোল্ডেন মনিরের আরো চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২০ নভেম্বর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে মনিরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র্যাব। ওই সময় তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় দশটি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যা প্রায় বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২২ নভেম্বর সকালে রাজধানীর বাড্ডা থানায় র্যাব বাদী হয়ে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা দায়ের হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৩ মার্চ রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মনিরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে।
এর আগে, সম্পদের হিসাব চেয়ে মনিরকে নোটিশ দেয় দুদক। কিন্তু মনির দুদকের সেই নোটিশ পেয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দেন। পরে হাইকোর্টে এ বিষয়ে একটি রিট মামলার কারণে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এছাড়া ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে রাজউকের ৭০টি নথি নিজ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে হেফাজতে রাখার দায়ে দায়ের করা একটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া অনৈতিকভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করায় দুদক তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।