ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাব বিবরণী আদালতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:০১, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০
এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাব বিবরণী আদালতে
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা

দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ সময় সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল অফিসার আতিকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে তাদের শাখার গ্রাহক এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাবে মোট চার কোটি টাকা জমা হওয়াসহ হিসাব বিবরণী আদালতে জমা দেন।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে তিনি হিসাব জমা দেন।

আতিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৩০ জুলাই দুদকের পরিচালক বেনজির আহমেদ তাদের ব্যাংকে আসেন। সে সময় বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়, যা তার কাছে জিম্মায় দিয়ে আসেন। সাক্ষ্য দেয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন- শাখওয়াত হোসেন মিশন ও একই শাখার সিনিয়র অফিসার আওলাদ হোসেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ৪ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। এ পর্যন্ত মামলার ১৮ সাক্ষীর মধ্যে সাত জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

এর আগে, গত ১৩ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত ৫ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের হাজির হতে নির্দেশনা দেন।

গত ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক বেনজীর আহমেদ এ চার্জশিট দেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন- সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তদন্তকালে মারা যাওয়ায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে চার কোটি টাকা ভুয়া ঋণ তৈরি করে তা একইদিনে পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি এসকে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরে এসকে সিনহা নগদ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!