ঢাকা,  বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

খুবি’র প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০১, ২ জানুয়ারি ২০২০
খুবি’র প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা বর্ধিত বেতন-ফি প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবিতে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ প্রশাসনিক ভবনের ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সব ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এর আগে সকালে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রয়োজনে এই মুহূর্তে মিটিং বসিয়ে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের লিখিত আশ্বাস দেয়া হোক। দাবি না মানা পর্যন্ত এই অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন তারা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো, আবসন সংকট দূরকরণ, বেতন ফিসের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেতন কমানো, দ্বিতীয় পরীক্ষণের ব্যবস্থা ও কোডিং পদ্ধতির ব্যবস্থাকরণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী অধ্যাদেশের সংস্কার তথা সাংস্কৃতিক অবরুদ্ধতা থেকে মুক্তি ও মুক্তচিন্তা বিকাশে অধ্যাদেশের ব্যবস্থাকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত যেসব দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে তার প্রতিকার করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েক বছরে বেতন ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নতুন টার্ম রেজিস্ট্রেশনের পূর্বেই বেতন-ফি সহনীয় মাত্রায় কমানোর দাবি জানান। এ সময় রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় আনা না হলে তারা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে না বলেও জানান।

এদিকে বুধবার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিসহ সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখে সুপারিশ প্রদানে ডীনদের সমন্বয়ে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের লিখিত বক্তব্য না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

গত ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা ছাত্র-বিষয়ক পরিচালকের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর ২১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় বুধবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সমবেত হয়ে এ বিক্ষোভ শুরু করে। পরে দুপুর ১২টায় তারা শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

বৃহস্পতিবার সকালে আবার ২য় দিনের মতো কর্মসূচি শুরু করে তারা। যা দিনভর অব্যাহত থাকে। 

বিকেলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, এরইমধ্যে অন্য সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ফি তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। যদি অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি অস্বাভাবিক বেশি হয়ে থাকে তা কমানো হবে। 

তিনি আরো বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য গঠিত কমিটি যেসব সুপারিশ করবে তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!