ক্যারিয়ারের ভালো সময় পার করছি: তানিয়া বৃষ্টি
বর্তমান সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন তানিয়া বৃষ্টি। চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেন তিনি। অভিনয় করেছেন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে। গত ঈদেও তার বেশকিছু নাটক এসেছে। প্রত্যেকটি নাটকেই নিজেকে ভিন্ন রূপে হাজির করেছেন। দর্শকের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন এ অভিনেত্রী।
তার সমসাময়িক কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে। আলাপচারিতায় ছিলেন এম.আর রুবেল।
কেমন আছেন?
তানিয়া বৃষ্টি: এখন ভালো আছি। মাঝে একটা দুশ্চিন্তার সময় কেটেছে। শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন আবার শুটিং শুরু করেছি। ভালো লাগছে।
কাজবিহীন বাসায় কীভাবে সময় কাটিয়েছেন?
তানিয়া বৃষ্টি: পরিবারে সময় দিয়েছি, বই পড়েছি, পরিবারের অন্য সবার সঙ্গে দাবা খেলেছি। আমার দুটি বিড়ালের বাচ্চা আছে, এদের সঙ্গে সময় কেটেছে। এভাবেই সময় কেটেছিলো।

অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আপনার কোনো কাজ থেমে গেছে?
তানিয়া বৃষ্টি: আমার গত জুলাই পুরোটাই শুটিং ছিল। যখন দেখলাম, দেশের অবস্থা খারাপ তখন সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দিকে কিছু কাজ করতে পারলেও শেষ দিকের কাজগুলো বাতিল করা হয়। আমার পাঁচ-ছয়টা কাজ বন্ধ হয়েছে।
ভিন্নধর্মী নতুন চরিত্রে আপনাকে দেখা যায়, নিজের ভালো লাগা থেকে করেন নাকি গল্পের প্রয়োজনে?
তানিয়া বৃষ্টি: ‘পিনিকেই ঝিনিক’ করার পর আমার কাছে ভিন্নধর্মী চরিত্র আসা শুরু হয়। যখন আমার কাছে এ ধরনের স্ক্রিপ্ট আসে, তখন থেকে পছন্দ করে কাজগুলো শুরু করি।
ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে কতটা চ্যালেঞ্জ মনে হয়?
তানিয়া বৃষ্টি: চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই। শহরকেন্দ্রিক যেসব চরিত্র থাকে সেগুলোয় আসলে বেশি কিছু করার থাকে না। হয়ত ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া একটা মেয়ে অথবা একজন গৃহিণী। যেগুলোয় অন্য রকম কিছু করতে পারি, যেমন মেসে রান্না করছি হতে পারে, বস্তির ক্রাইসিস জীবন অথবা জামাইয়ের অত্যাচার, অর্থাৎ ব্যতিক্রম চরিত্রগুলো করতে ভালো লাগে। এগুলো আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়।

অভিনেতা মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বলুন।
তানিয়া বৃষ্টি: এটা আসলে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা, এর থেকে সুন্দর অভিজ্ঞতা হতেই পারে না। আমার মনে হয়, মোশাররফ করিম প্রত্যেকটা জেনারেশনে একটাই জন্মান। মোশাররফ ভাইয়া আমাকে তার সহ-অভিনেত্রী হিসেবে খুবই পছন্দ করেন। এমনকি অনেক গল্পের চরিত্রে তিনি নিজে ডিরেক্টরদের বলেছেন যে এটায় তানিয়াকে নিলে ভালো হবে। আমি খুবই ভাগ্যবান যে তার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারি।
আপনি দর্শকপ্রিয় অনেক নাটকে কাজ করেছেন। নিজের সেরা কাজটা করতে পেরেছেন বলে মনে হয়?
তানিয়া বৃষ্টি: নিজের সেরাটা যেদিন দিয়ে ফেলব, সেদিন তো আর কিছু বাকি থাকবে না। যেহেতু অভিনয় করি, একেক সময় একেক চরিত্র আসে। ওই চরিত্রে কতটুকু করতে পারছি এটা হচ্ছে কথা। আরেকটা যখন ভিন্ন চরিত্র এল, তখন ওটায় আবার কতটা করতে পারছি এটা হচ্ছে ব্যাপার। একদম সেরা সব চরিত্র দিয়ে ফেলেছি বা হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন একদমই না। সেরাটা দিতে এখনো অনেক বাকি।
অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার আগামীর ভাবনা কী?
তানিয়া বৃষ্টি: জীবনে যতদিন বাঁচি অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। এমন জায়গায় যেতে চাই যে আমার জেনারেশন বা পরের জেনারেশন যেন বলে, ‘তানিয়া বৃষ্টি নামে একজন অভিনেত্রী ছিল। আমি তার মতো অভিনয় করতে চাই।’ এ রকম একটা জায়গায় নিজেকে দেখতে চাই।
বর্তমানে শোবিজে আপনি একটা শক্ত অবস্থানে আছেন, কেমন লাগছে?
তানিয়া বৃষ্টি: ভালো লাগছে। আমার মনে হয়, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময় এখন পার করছি। কিন্তু এখনো অনেক কিছু করার বাকি। জায়গাটা এভাবেই ধরে রাখতে চাই। আর ভবিষ্যতে আরো অনেক দূর যেতে চাই।

ওটিটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা যদি বলতেন...
তানিয়া বৃষ্টি: ওটিটিতে আমি একটা কাজ করেছি। চঞ্চল ভাইয়ের সঙ্গে কাজটি করেছিলাম। ওটিটিতে অডিশনের একটা ব্যাপার থাকে, শুটিংয়ে অনেক বড় সময় থাকে, ধরে ধরে কাজ করার বিষয় থাকে। বাজেটও অনেক বড় হয় আর পরিসরটাও বড় হয়। সব মিলিয়ে এখানে খুব মসৃণভাবে কাজ করা যায়। অভিনয়ে অনেক বেশি ফোকাস থাকা যায়। কোনো সময় সীমাবদ্ধতা নেই, যার কারণে কাজটাও ভালো হয়। ওটিটির ব্যাপারটা যদি নাটকেও ঘটত তাহলে আমরা অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে সময় নিয়ে আরো ভালোভাবে অভিনয়টা করে দেখাতে পারতাম।
বাংলা নাটকে জুটি প্রথা নিয়ে কী বলবেন?
তানিয়া বৃষ্টি: নাটকে জুটিটা একটা পজেটিভ জিনিস। আমরা বাংলা সিনেমায় দেখেছি যেমন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ করার পর মৌসুমী আপু-সালমান শাহের প্রতিটা সিনেমা সুপারহিট। যদিও সিনেমার বিষয়টা আলাদা। নাটকের ক্ষেত্রে অনেক সময় একই জুটি দর্শক দেখতে দেখতে তিক্ত হয়ে যায়। আমার মতে জুটি ভালো, তবে তা একটা লিমিট রেখে করা উচিত।
আপনাকে আবার কবে সিনেমায় দেখা যাবে?
তানিয়া বৃষ্টি: আমার এখন সিনেমা বা ওটিটি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। কোনো পরিচালক যদি মনে করেন, একটা চরিত্রে আমাকে চাচ্ছেন। যদি আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং আমার ভালো লাগে, তাহলে করব।