ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

হরমুজ প্রণালিতে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করল ইরান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করল ইরান
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও আবেদন পরিচালনার জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে ইরান। ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামের সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকরের অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে আগামী ১ নভেম্বর থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সংস্থাটি এ ঘোষণা দেয়। তাদের অভিযোগ, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করেছে সিনোকরের জাহাজগুলো। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজমালিকদের সংগঠন বলেছে, ইরানের বক্তব্যে উল্লেখ করা জাহাজগুলোর মালিক সিনোকর নয়। বুধবার দেওয়া ব্যাখ্যায় সংগঠনটি জানায়, জাহাজগুলো বিদেশি একটি তেল কোম্পানির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এসব জাহাজে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো নাবিক ছিলেন না; কেবল বিদেশি নাবিকেরা কাজ করতেন। সিনোকরের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দাবি, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিনোকর আগে কোনো পৃথক সতর্কবার্তা পায়নি। প্রতিষ্ঠানটি এখন বিষয়টি যাচাই করছে।

এর আগে গত আগস্টে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৪৫টি তেলবাহী ট্যাংকারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল ইরান। ওই তালিকায় সিনোকরের মালিকানাধীন জাহাজও ছিল।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে তেহরান। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান।

এর ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো জাহাজে হামলার ঝুঁকি এড়িয়ে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গোপন চলাচল’ পদ্ধতি, যেখানে জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়, যাতে সেগুলোকে সহজে শনাক্ত করা না যায়। নিজেদের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ সচল রাখতেই দেশগুলো এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!