হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে পুড়ল দুই তেলবাহী ট্যাংকার
হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। জাহাজ দুটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা। তবে ট্যাংকার দুটির নাম ও তেলের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরনার প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, একটি ট্যাংকারে নৌমাইনের আঘাতে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে দ্বিতীয় ট্যাংকারটিতেও মাইনের আঘাতে আগুন লাগে।
ইরানের দাবি, ট্যাংকার দুটি নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে দেশটির অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তেহরান। প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ছে। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওমান উপসাগরে তাদের ঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকায় দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগে। এ ছাড়া শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের উপকূলের কাছেও দুটি ট্যাংকারে হামলার খবর দিয়েছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকেরা।
নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় ছয়টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এটিই ছিল সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান হামলা জোরদার করছে বলে জানিয়েছে তেহরান। সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছিল। তবে ১১ অক্টোবর তা কমে ২৯ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের আশা, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি হতে পারে। তবে সংঘাতের অবসান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।