ঢাকা,  শুক্রবার   ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

‘ককরোচ পার্টি’র ৩৬ দিনের আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:৪৪, ২৫ জুলাই ২০২৬
‘ককরোচ পার্টি’র ৩৬ দিনের আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ
ছবি সংগৃহীত

টানা ৩৬ দিনের বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, অনশন, দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন এবং সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান দাবি পূরণ হলো। আন্দোলনের নেতারা এটিকে ‘গণতন্ত্র ও তরুণদের বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করে কর্মসূচি সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল মে মাসে। জাতীয় পর্যায়ের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিচার বিভাগের এক মন্তব্যে বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেই প্রতিবাদ থেকেই অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি, যা খুব অল্প সময়ে লাখো তরুণের সমর্থন পায়।

জুনের শেষ দিকে দিল্লির জন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে আন্দোলনকারীরা। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং পরীক্ষা–সংক্রান্ত সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ।

প্রথমদিকে সরকার আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও ধরপাকড় চালায়। তবে এসব পদক্ষেপ আন্দোলন দমাতে পারেনি। আরও বেশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ এতে যুক্ত হন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাও প্রকাশ্যে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান এবং সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরব হন।

আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন। তিনি আন্দোলনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে দীর্ঘ অনশন শুরু করেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে দীর্ঘ সময় কোনো সমঝোতা হয়নি।

অবশেষে ক্রমবর্ধমান জনচাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয় দেশটির সরকার। এরপরই ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করার আহ্বান জানায়।

পদত্যাগপত্রে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হোক, তা তিনি চান না। তিনি দাবি করেন পুরো পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি এবং দেশের তরুণদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের কৃষক আন্দোলনের পর নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এটি অন্যতম বড় জনআন্দোলন। যেখানে টানা গণচাপের মুখে সরকার গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ, বেকারত্ব, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং জবাবদিহির দাবিই এই আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস আই এস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!